বিএনএন ডেস্ক
ঢালু রাস্তায় হাঁটা বা ইনক্লাইন ওয়াকিং নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার শরীরচর্চা। সমতলে হাঁটার তুলনায় এতে অনেক বেশি ক্যালরি খরচ হয়, যা দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক। কিন্তু দৌড়ানোর চেয়েও কি এটি বেশি উপকারী? এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন। সংকলনে ছিলেন রাফিয়া আলম।
সমতল ভূমির চেয়ে উঁচু দিকে হেঁটে উঠতে গেলে শরীরের বেশি শক্তি ব্যয় হয়। এর ফলে খুব অল্প সময়েই বেশি পরিমাণ ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব হয়, যা অনেকটা পাহাড়ি পথে হাঁটার মতো সুফল দেয়।
আধুনিক অনেক ট্রেডমিলে ঢাল পরিবর্তনের সুবিধা থাকে, যা সমতলে থেকেও পাহাড়ের ঢালে হাঁটার অনুভূতি দেয়। অর্থাৎ ইনক্লাইন ওয়াকিংয়ের সুবিধা এখন ঘরে বসেই পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, সমতলে দৌড়ানোও শরীরের জন্য খুবই ভালো ব্যায়াম। সাধারণ হাঁটার চেয়ে দৌড়ালে ক্যালরি অনেক বেশি খরচ হয়।

ইনক্লাইন ওয়াকিং এবং দৌড়ানো—উভয়ই সাধারণ হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। তবে আপনার জন্য কোনটি উপযুক্ত, তা নির্ভর করে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর ভালো ও মন্দ উভয় দিকই বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনক্লাইন ওয়াকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা রাখা প্রয়োজন।
সমতলে হাঁটার চেয়ে ইনক্লাইন ওয়াকিংয়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব।
শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরানো অনেক সহজ হয়ে যায়।
পায়ের পেশি ও নিতম্বের শক্তি বৃদ্ধিতে এটি দারুণ কার্যকর।
শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
হাড়ের সংযোগস্থল বা জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই এই ব্যায়াম করা যায়।
নিরাপদ স্থানে করলে এতে চোট পাওয়ার ঝুঁকি কম। বয়োজ্যেষ্ঠ বা ভারী ব্যায়ামে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্যও এটি বেশ উপযোগী।

এটি একটি মাঝারি তীব্রতার ব্যায়াম হওয়ায় নিয়মিত চালিয়ে নেওয়া সহজ, বিশেষ করে যদি আপনার কাছে উপযুক্ত ট্রেডমিল থাকে। যদি আপনি একদমই শরীরচর্চা না করেন বা শুধু সমতলে হাঁটেন, তবুও ইনক্লাইন ওয়াকিং শুরু করা আপনার জন্য খুব একটা কঠিন হবে না। তবে ট্রেডমিলের বদলে যদি সরাসরি পাহাড়ি পথে হাঁটতে চান, তবে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। অনভ্যস্ত মানুষের জন্য পাহাড়ি পথ বেশ দুর্গম হতে পারে।
সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী অভ্যাসের বিষয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ফিটনেস বজায় রাখতে আপনার পছন্দসই ব্যায়ামটি বেছে নিন। ইনক্লাইন ওয়াকিং শুরু করতে চাইলে শুরুতে ট্রেডমিলের ঢাল ও গতি কম রাখুন, পরে ধীরে ধীরে তা বাড়ান। কেবল ক্যালরি পোড়ানোর দিকে নজর না দিয়ে পেশির শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও সপ্তাহে অন্তত দুদিন করা উচিত। পর্যাপ্ত জায়গার অভাব বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় বাইরে দৌড়ানো সম্ভব হয় না, সেদিক থেকে ইনক্লাইন ওয়াকিং অনেকটা সুবিধাজনক।

দৌড়ানোর মাধ্যমে হাঁটার চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ক্যালরি খরচ করা সম্ভব এবং এটি পেশি গঠনেও সহায়তা করে। তবে দৌড়ানো সবার জন্য সহজ নয়। পর্যাপ্ত ক্যালরি খরচ করতে হলে যে গতিতে দৌড়ানো প্রয়োজন, তাতে হাঁটু ও গোড়ালিতে প্রচুর চাপ পড়ে। এছাড়া ফিটনেস ভালো না থাকলে দৌড়ানোর সময় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা বয়স্কদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। হাড়ের সমস্যা বা জয়েন্টে ব্যথা থাকলে দৌড়ানো বেশ কষ্টকর। এছাড়া উচ্চ তীব্রতার ব্যায়ামের অভ্যাস নিয়মিত বজায় রাখা অনেকের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com