১২ মে ২০২৬
preview
কেনিয়া সম্মেলনে আফ্রিকায় ২৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর

বিএনএন ডেস্ক

কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত 'আফ্রিকা ফরোয়ার্ড' সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আফ্রিকান মহাদেশের জন্য মোট ২৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগের একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন।
গত সোমবার ম্যাক্রোঁ জানান যে, ফ্রান্স ও আফ্রিকার সম্পর্ক এখন 'পারস্পরিক সমতার' ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তিনি ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ১৪ বিলিয়ন ইউরো এবং আফ্রিকান উৎস থেকে ৯ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দেন, যা মূলত কৃষি, জ্বালানি রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হবে।
নাইরোবিতে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেন, এই বিশাল বিনিয়োগের ফলে ফ্রান্স এবং আফ্রিকা জুড়ে প্রায় ২.৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উল্লেখ্য, ইংরেজিভাষী কোনো আফ্রিকান রাষ্ট্রে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম এ ধরনের শীর্ষ সম্মেলন।
নাইরোবির কনভেনশন সেন্টারে ৩০টিরও বেশি আফ্রিকান দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, 'আমরা এখানে কেবল বিনিয়োগ করতে আসিনি, বরং আমরা চাই আফ্রিকার সফল উদ্যোক্তারাও ফ্রান্সে এসে বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলুক।'
ম্যাক্রোঁ আরও উল্লেখ করেন যে, এই নতুন ধরনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোনো প্রকার ঐতিহাসিক জড়তা বা সংকোচ ছাড়াই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফ্রিকার সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটার প্রেক্ষাপটে, ইংরেজিভাষী দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেই ফ্রান্স এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
এই বিশেষ আয়োজনে আফ্রিকার শীর্ষ ধনী আলিকো ডাঙ্গোটে ছাড়াও ফরাসি জায়ান্ট কোম্পানি টোটালএনার্জি এবং অরেঞ্জ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
ফরাসি জাহাজ কোম্পানি সিএমএ সিজিএম কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরের একটি টার্মিনালকে আধুনিক করতে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো (৮.২ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অনেকেই মনে করেন, আফ্রিকায় ফ্রান্সের ঐতিহ্যগত প্রভাব যখন ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে, তখন ম্যাক্রোঁ মহাদেশটিকে একটি অখণ্ড সত্তা হিসেবে দেখে নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। তিনি ইউরোপকে চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় আরও নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে চান।
সম্মেলনের প্রাক্কালে একটি সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, আফ্রিকার বর্তমান সমস্যার জন্য সবসময় উপনিবেশবাদকে দায়ী করা ঠিক হবে না। স্বাধীনতার পরবর্তী সাত দশকেও আফ্রিকার নিজস্ব সুশাসনের অভাব ছিল এবং নেতাদের সেই দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ম্যাক্রোঁ আরও জানান যে, ঔপনিবেশিক আমলে লুট হওয়া শিল্পকর্মগুলো আফ্রিকায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফরাসি পার্লামেন্টে এসব নিদর্শন ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি পথ প্রশস্ত করতে একটি নতুন বিল পাস হয়েছে।
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের দেশগুলো যখন বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার করছে, ঠিক তখনই কেনিয়াতে আন্তর্জাতিক সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। এই সম্মেলনের এক মাস আগেই প্রায় ৮০০ ফরাসি নৌসেনা একটি জাহাজে করে কেনিয়া উপকূলে পৌঁছায়।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো ফরাসি প্রেসিডেন্টের সাথে তার চমৎকার সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, 'আমাদের এখন আর সাহায্য বা ঋণের দৃষ্টিভঙ্গিতে ভাবা উচিত নয়; বরং আফ্রিকার সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।'

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com