১২ মে ২০২৬


যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতেই ইউক্রেনে ২০০-র বেশি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া, জানালেন জেলেনস্কি
বিএনএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তিন দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়া ও ইউক্রেন পুনরায় আকাশপথে হামলা শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত রাতে ইউক্রেন অভিমুখে ২০০-র বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে রুশ বাহিনী।
মঙ্গলবার সকালে ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, রুশ ড্রোনগুলো ইউক্রেনের মাইকোলাইভ অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে, যার ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এছাড়া কিয়েভ অঞ্চলে আবাসিক ভবন ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খারকিভ, ঝিতোমির, সুমি এবং চেরনিহিভ অঞ্চলেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
জেলেনস্কি জানান, এই দফায় হামলায় ২০০-র বেশি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, “কয়েক দিনের সাময়িক নীরবতা ভাঙার সিদ্ধান্ত রাশিয়া নিজেই নিয়েছে।”
অন্যদিকে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেলগোরোদ, ভোরোনেজ এবং রোস্তভ অঞ্চলে ২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলা শুরু হয়। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, এই বিরতি ইউক্রেনে রাশিয়ার চার বছরের যুদ্ধের “সমাপ্তির সূচনা” করবে।
৯ থেকে ১১ মের এই যুদ্ধবিরতি রাশিয়ার ‘বিজয় দিবস’ উদযাপনের সাথে মিলে যায়, যে দিনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয় স্মরণে পালিত হয়।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মানছে না, এমনকি মানার চেষ্টাও করছে না। তিনি আরও যোগ করেন যে, বড় ধরনের হামলার সাময়িক বিরতি থাকলেও সম্মুখ সমরে কোনো শান্তি ছিল না।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ১,০০০-এর বেশি বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। তারা দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এবং ফ্রন্ট লাইনে রুশ সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীও এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিপরীতে উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আলোচনা খুব একটা এগোতে পারেনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে এটি কিছুটা আড়ালে পড়ে গিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা রুশ আক্রমণ বন্ধে পুনরায় আলোচনার আশা জাগিয়েছিল।
গত শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথমবারের মতো ইঙ্গিত দেন যে ইউক্রেন যুদ্ধ “শেষ হতে পারে” এবং চূড়ান্ত চুক্তি হলে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে মস্কো বা কোনো নিরপেক্ষ দেশে দেখা করতে রাজি আছেন। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমা বিশ্বকে সতর্ক করে বলেন যে রাশিয়ার কৌশলগত সামরিক বাহিনী যে কোনো সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com