১২ মে ২০২৬
preview
‘আয়ে খাবারই জোটে না, মায়ের ওষুধ কিনবো কী করে?’

বিএনএন ডেস্ক

লিটন চন্দ্র দাস (৪০) নামের এক ব্যক্তি বলছিলেন, জুতা সেলাই ও রং করার কাজ করে তিনি প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করেন। কিন্তু বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অনেক বেশি। তার উপর অসুস্থ ও বৃদ্ধা মায়ের ওষুধের পেছনে প্রতি মাসে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। এই সামান্য আয়ে দুবেলা খাবারের সংস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে, মায়ের ওষুধ কেনা তো দূরের কথা।

লিটন চন্দ্র দাস আরও জানান যে, ঝড়-বৃষ্টির দিনে বা নিজের শরীর অসুস্থ থাকলে ফুটপাতে বসে কিংবা হেঁটে জুতা সেলাই ও রং করার কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলস্বরূপ, তিনি মাসে গড়ে মাত্র ২০ থেকে ২২ দিন কাজ করতে পারেন। এই সীমিত সময়ে তার মোট আয় দাঁড়ায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। যেখানে শুধু অসুস্থ মায়ের ওষুধের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে কোনোভাবেই সংসার চালানো সম্ভব হয় না। প্রতি মাসেই তাকে ধারদেনা করতে হয় এবং অনেক সময় অনাহারে বা অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। সন্তানদের পড়াশোনাও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার একমাত্র ছেলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে আর এগোতে পারেনি।

লিটন চন্দ্র দাস ১৯৯৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে এই জুতা সেলাই ও পলিশ করার পেশায় আসেন। তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করেন এবং তার দৈনিক গড় আয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, যদিও কিছু দিন ৩৭৫ টাকাও রোজগার হয়।

লিটন চন্দ্র দাস হতাশার সুরে বলেন, ‘বাজারে এখন কাঁচা তরকারি, সয়াবিন তেল, ডিম, চাল, মাছ, মাংসসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক চড়া। দোকান থেকে বাকি করে জিনিসপত্র কিনতে হয়। মাসের শেষে সেই বকেয়া পরিশোধ করে আবার নতুন করে বাকি নিতে হয়। কিন্তু সব পণ্য বাকিতে পাওয়া যায় না, দোকানিরাও আজকাল কেমন যেন বদলে গেছেন।’

উপজেলার কলাদী এলাকার অধিবাসী এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি লিটনকে খুব ভালোভাবে চেনেন। তিনি মনোযোগ সহকারে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জুতা সেলাই, পলিশ এবং রং করার কাজ করেন। তিনি ন্যায্য মূল্যের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেন না এবং তার কাজের মানও খুব ভালো। জাহাঙ্গীর আলম লিটনকে একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com