বিএনএন ডেস্ক
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, আমাদের দৈনন্দিন লেনদেনে ব্যবহৃত কাগজের নোট এবং ধাতব মুদ্রায় উপস্থিত ক্ষতিকর জীবাণুর পরিমাণ অনেক সময় একটি ব্যবহৃত টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি হতে পারে। টাকা যেহেতু এক হাত থেকে অন্য হাতে নিয়মিত আদান-প্রদান হয়, বিভিন্ন নোংরা পরিবেশে থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত হয়, তাই এটি জীবাণুদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়।
১. ব্যাপক ব্যবহার: একটি নোট বা মুদ্রা প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের হাত ঘুরে বেড়ায়। এটি মাছের বাজার থেকে শুরু করে হাসপাতালের কাউন্টার পর্যন্ত সব জায়গায়ই একইভাবে ব্যবহৃত হয়।
২. আর্দ্রতা ও ছিদ্রযুক্ত গঠন: কাগজের নোটের সূক্ষ্ম তন্তুগুলো ঘাম, ধুলা এবং আর্দ্রতা সহজেই শোষণ করে, যা ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
৩. পরিষ্কারের অভাব: আমরা নিয়মিতভাবে আমাদের বাড়িঘর বা টয়লেট পরিষ্কার করলেও, টাকা পরিষ্কার বা জীবাণুমুক্ত করার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আমাদের নেই। ফলে বছরের পর বছর ধরে এতে জীবাণুর একটি স্তর জমতে থাকে।
আঙুলে থুতু লাগিয়ে টাকা গোনা
আমাদের দেশে ব্যাংক থেকে শুরু করে সাধারণ দোকানের বিক্রেতারা পর্যন্ত প্রায়শই আঙুলে থুতু লাগিয়ে টাকা গুনে থাকেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর মাধ্যমে সরাসরি টাকা থেকে জীবাণু মুখে প্রবেশ করতে পারে। আবার, লালারসের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির শরীরের জীবাণু নোটে ছড়িয়ে পড়ে, যা অন্য ব্যক্তির সংক্রমিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

১. হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন: টাকা নাড়াচাড়া করার পর, বিশেষ করে কিছু খাওয়ার আগে, সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। যদি হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
২. ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহিত করুন: বর্তমান সময়ে, নগদ টাকার বিকল্প হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের ব্যবহার অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। এতে জীবাণুর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
৩. শিশুদের সচেতন করুন: শিশুরা অনেক সময় টাকা মুখে দেয়। এই অভ্যাসটি যেন তাদের না থাকে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি।
৪. মানিব্যাগের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: মাঝে মাঝে আপনার মানিব্যাগ বা পার্স পরিষ্কার করুন। টাকার সাথে রুমাল বা টিস্যু পেপার রাখবেন না।
টাকা আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ, কিন্তু এই টাকার মাধ্যমেই যেন রোগজীবাণু আপনার ঘরে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতাই পারে আপনার 'প্রকৃত সম্পদ' অর্থাৎ স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে।

নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা অনুযায়ী, একটি কাগজের নোটে প্রায় তিন হাজার ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. ই-কোলাই (E. coli): এটি পেটের সমস্যা বা ডায়রিয়া এবং প্রস্রাবের নালীর সংক্রমণের জন্য দায়ী।
২. স্ট্যাফাইলোকক্কাস (Staphylococcus): এটি ফুসফুস, ত্বক, হাড় এবং এমনকি মস্তিষ্কের সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
৩. বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক।
৪. ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাস, যা টাকার নোটে বেশ কয়েক দিন সক্রিয় থাকতে পারে।
তথ্যসূত্র: প্লাস ওয়ান (PLOS One), মিশিগান ইউনিভার্সিটি নিউজলেটার (Michigan University Newsletter), ওয়েবএমডি (WebMD)
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com