১২ মে ২০২৬
preview
হারিয়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে

বিএনএন ডেস্ক

যারা এখনও হামের টিকা নেয়নি, তাদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটি ২০ মে পর্যন্ত চলবে। তবে, বড় শহরগুলোতে রাস্তার শিশু এবং ভাসমান পরিবারের শিশুদের টিকার আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

দুটি উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে সকল জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পৌরসভা মেডিক্যাল কর্মকর্তা এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইপিআই-এর ৭ মের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দ্রুত যাচাই পদ্ধতি আরসিএম (র‌্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিং) ব্যবহার করে কমপক্ষে ২০টি পরিবার পরিদর্শন করে বাদ পড়া শিশু শনাক্ত করতে হবে। এরপর তাদের নিকটবর্তী কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে, ওই উপজেলায় ২ থেকে ৩ শতাংশ শিশু এখনও হামের চলমান ক্যাম্পেইনের টিকা পায়নি। গতকাল সোমবার থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশু খুঁজে বের করার কাজ শুরু হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের আরেকটি জেলার সদরে কর্মরত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একজন মেডিকেল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি ২০টি পরিবার ঘুরে টিকা নিতে বাদ পড়া তিনটি শিশু পেয়েছেন।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা হাম কী, কেন ও কীভাবে ছড়ায় এবং শিশুর হাম হলে করণীয় সম্পর্কে জানাচ্ছেন।

সাধারণত বড় শহরগুলোতে বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা বেশি থাকে। এই শিশুরা কোথায় আছে, তা খুঁজে বের করাও কঠিন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেছেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভসের (আইদেশি) কর্মীরা বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে সহায়তা করছেন।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ভাসমান শিশুদের টিকা দেওয়ার জন্য দুটি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো সেতুর উপর, জাতীয় উদ্যানের আশেপাশে, চিড়িয়াখানার সামনে, মেট্রোরেল স্টেশনের সিঁড়ির নিচে এবং সম্ভাব্য অন্যান্য স্থানগুলোতে যাচ্ছে যেখানে ভাসমান পরিবারের সাথে শিশু থাকতে পারে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আট বিভাগে ১ কোটি ৮০ লাখ ১৬ হাজার ৯১৪ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ৫ এপ্রিল টিকা দেওয়া শুরুর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৬ শিশু টিকা পেয়েছে। অর্থাৎ, টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৩৮ জন।

বাংলাদেশে হামের প্রত্যাবর্তন: তবে এই প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধযোগ্য ছিল

আরও ছয় শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত) আরও ছয়টি শিশু মারা গেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ১ জন রয়েছে। এই সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ৩৪১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে মোট ৩৫০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৬৫ শিশু। অর্থাৎ, এ পর্যন্ত মোট ৪১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com