বিএনএন ডেস্ক
প্রকৃতিতে এমন কিছু মাছ রয়েছে যারা নিজেদের ডিম বা পোনা খেয়ে ফেলে। সাধারণ দৃষ্টিতে এটি অমানবিক মনে হলেও জলের তলায় টিকে থাকার সমীকরণ ভিন্ন। টিকে থাকার লড়াই যখন কঠিন হয়ে পড়ে, তখন অনেক মাছই সুরক্ষার চেয়ে নিজের জীবন ও শক্তি সঞ্চয়কে প্রাধান্য দেয়। বিজ্ঞানীরা একে নিষ্ঠুরতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখার একটি ভিন্নধর্মী কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন। পানির নিচের জগত আসলে আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি রোমাঞ্চকর এবং সেখানে বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্তই সংগ্রামের।

কেন এমন আচরণ ঘটে?
গবেষকদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং ভীতি মাছের এই আচরণের জন্য দায়ী। পানির পরিবেশ বা তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন ঘটলে এরা বিচলিত হয়ে পড়ে। তারা মনে করে প্রতিকূল পরিবেশে এই সন্তানরা বাঁচবে না, ফলে ডিমগুলো নিজেরাই সাবাড় করে দেয়। অনেক সময় দুর্বল ও রুগ্ন ডিমগুলো বেছে খেয়ে ফেলা হয় যাতে সুস্থরা পর্যাপ্ত সুযোগ পায়। একে এক ধরনের প্রাকৃতিক বাছাই প্রক্রিয়া বলা যেতে পারে। এমনকি বেটা মাছ বা গাপ্পির মতো মাছেরাও অনেক সময় অভিজ্ঞতার অভাবে কিংবা ভয় পেয়ে নিজেদের ডিম খেয়ে ফেলে।
স্নেহশীল বাবা-মায়ের উদাহরণ
সব মাছ কিন্তু কেবল সন্তান শিকার করে না। অনেক মাছ অত্যন্ত যত্নশীল। যেমন ক্লাউন ফিশ শত্রু থেকে ডিম বাঁচাতে দিনরাত পাহারা দেয়। আবার সিক্লিড মাছ বিপদের সময় বাচ্চাদের নিজের মুখের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় দেয়—যা অনেকটা চলন্ত বাসের মতো কাজ করে। সমুদ্রের এই অদ্ভুত জগত আসলে 'ফিলিয়াল ক্যানিবালিজম' বা স্বগোত্রীয় ভক্ষণের মতো কঠোর বাস্তবের পাশাপাশি গভীর মমতাও ধারণ করে। বনের হোক বা জলের, প্রতিটি প্রাণীর মূল লক্ষ্যই হলো পরিবেশের সাথে মানিয়ে বংশধারা টিকিয়ে রাখা। মানুষের কাছে যা নির্মম, প্রকৃতির কাছে তা অস্তিত্ব রক্ষার কৌশল মাত্র।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com