১১ মে ২০২৬
preview
দেশীয় শিল্পের জন্য উচ্চ সুরক্ষামূলক নীতি পরিহারের পরামর্শ

বিএনএন ডেস্ক

বক্তারা সম্মেলনে উল্লেখ করেন যে একটি দায়িত্বশীল, নির্ভরযোগ্য এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনীতি গঠন অপরিহার্য, যা সত্যিকারের কর্মসংযোগ সৃষ্টি করবে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় শিল্পকে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদানের প্রথা থেকে সরে আসা উচিত, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে। অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক শুল্কের পরিবর্তে একটি সমন্বিত বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ এবং করনীতি থাকা জরুরি, যা রপ্তানিমুখী অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কর্তৃক আয়োজিত ‘বাণিজ্যনীতি, শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগের প্রভাব ও ভোক্তা কল্যাণ’ বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব মতামত প্রদান করা হয়। আজ সোমবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার।

বিডা-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন যে, 'সংরক্ষণশীলতা চিরস্থায়ী হতে পারে না।' এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিতে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিল্পকে দীর্ঘকাল সুরক্ষা না দিয়ে এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে। আমরা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি; আমাদের নীতিগুলোকে শুধু পরিকল্পনায় না রেখে বাস্তবায়নে নিয়ে যেতে হবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হবে। একটি দায়িত্বশীল, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা সত্যিকারের কর্মসংস্থান তৈরি করে।

নিজের মূল উপস্থাপনায়, পিআরআই-এর চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার দেশের শুল্কপ্রথা, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং রপ্তানি বৃদ্ধির কৌশল সংশোধনের দাবি জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান নীতি কাঠামো উৎপাদক এবং ভোক্তা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

জাইদী সাত্তার জানান যে, আমদানি সংক্রান্ত সুরক্ষার কারণে ভোক্তা পণ্যের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি, যার ফলে জিডিপির ৫ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভোক্তাকল্যাণে ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ভারতের চেয়েও বেশি হওয়ায় মার্কিন ডলারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ভারতের তুলনায় কম।

অনুষ্ঠানে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ মত প্রকাশ করেন যে, অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক শুল্কের বদলে একটি সমন্বিত বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ ও করনীতির মাধ্যমে রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য স্থির করা আবশ্যক। তিনি আরও বলেন যে, রাজস্ব এবং প্রবৃদ্ধি কৌশলের মধ্যে ভারসাম্য, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভোক্তা কল্যাণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানির বৈচিত্র্যকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবসা ও কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়ার বর্তমান নীতিটি পুনরায় বিবেচনা করা উচিত।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়গুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন যে, অতিরিক্ত সুরক্ষা রপ্তানির বহুমুখীকরণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। যেহেতু বিভিন্ন দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) বাড়ছে, তাই বাংলাদেশকে আরও উদার বাণিজ্য পরিবেশের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্তন সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন উল্লেখ করেন যে, কিছু শিল্প অত্যাধিক সুরক্ষা পেলেও, অন্যান্য অনেক শিল্প একেবারেই কোনো সুরক্ষা পায় না। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, কার্যকর কর সংস্কার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংগতি নিশ্চিত করার জন্য এনবিআর-এর প্রধান ভূমিকা হওয়া উচিত নীতি প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন।

ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেছেন, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশেষ করে ওষুধশিল্পের মতো দক্ষ স্থানীয় শিল্পের মাধ্যমে আমদানি প্রতিস্থাপন ভোক্তাদের জন্য উপকারী হবে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com