বিএনএন ডেস্ক
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার এবং পুরনো বিরোধের জেরে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১২ জন জখম হয়েছেন। সংঘর্ষকালে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ফাঁকা গুলি চালানো হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। পার্শ্ববর্তী কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, হামলা ও লুটের ঘটনাও ঘটে। সোমবার বিকেলে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের বরুনা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত ২ মে নাওড়া-ইছাখালী সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের ভাই আমিন হোসেনের সাথে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেনের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বিল্লাল হোসেন থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন। এই বিবাদ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে আজ বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমানের উপস্থিতিতে বরুনা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়। উভয় পক্ষ বিপুল সংখ্যক সমর্থক নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তীব্র আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে তা মারামারিতে গড়ায়। ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে দুই পক্ষ পরস্পরের ওপর হামলা চালায়। ৩ থেকে ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর দু’পক্ষের লোকজন একে অপরের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে পুরো এলাকা জুড়েই চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন সদস্য আহত হয়েছেন। বিল্লাল হোসেন (৩৫), মোমেন খাঁ (২৮) ও অপু মিয়াকে (২২) ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, বিল্লাল হোসেন তার অনুসারী ও বহিরাগতদের নিয়ে তাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালিয়ে গুলি বর্ষণ করেছে। অন্যদিকে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন দাবি করেছেন যে, সালিশ বৈঠকে রফিকুল ইসলামের সমর্থকেরাই অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন যে, সালিশ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, ফাঁকা গুলিবর্ষণের বিষয়টি তার জানা নেই বলে ওসি উল্লেখ করেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com