বিএনএন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত তিন সন্দেহভাজন ‘শুটার’কে আদালত রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ভারতজুড়ে অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার বারাসাত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের আগামী ২৪ মে পর্যন্ত রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উত্তর প্রদেশের বালিয়া থেকে ধরা পড়া মূল সন্দেহভাজন শুটার রাজ সিং, এবং বিহারের বক্সার থেকে আটক হওয়া তাঁর দুই সহযোগী ভিকি মৌর্য ও মায়াংক রাজ মিশ্র। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশ ও বিহার থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে এনে কড়া নিরাপত্তায় মুখঢাকা অবস্থায় তাঁদের বারাসাত বিচার বিভাগীয় হাকিমের আদালতে পেশ করা হয়।
গত ৬ মে রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে সন্ত্রাসীরা চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ঘটনার দিন দুষ্কৃতকারীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে ১০টি গুলি চালায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই চন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়। তাঁর গাড়ির চালকের শরীরেও তিনটি গুলি লাগে এবং তিনি বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হত্যাকাণ্ডের পর পরই সিট তদন্ত শুরু করে। খুনিরা মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার ঘটনাস্থলের কাছে একটি নিশান কোম্পানির গাড়ি ফেলে রেখে যায়। এরপর তারা গাড়ির চালককে জিম্মি করে দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কলকাতা বিমানবন্দরের ১ নম্বর গেটের কাছে ময়লা ফেলার জায়গায় মোটরসাইকেল দুটি ফেলে অন্য কোনো যানে করে গা ঢাকা দেয় তারা।
তদন্তকালে পুলিশ জানতে পারে যে অপরাধীরা গাড়ি ও মোটরসাইকেলগুলোতে ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করেছিল। তবে ইঞ্জিনের সূত্র ধরে বর্ধমান ও শিলিগুড়ির দুই বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এছাড়া হাওড়ার বালি এলাকার একটি টোল প্লাজায় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে অনলাইনে গাড়ির টোল পরিশোধের সূত্র এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসে।
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। যদিও তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তদন্ত জোরদার করার দাবি জানিয়েছে।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমি নির্বাচনে মমতার বিরুদ্ধে না লড়লে বা বিজেপির এত শক্তিশালী উপস্থিতি না থাকলে, হয়তো চন্দ্রনাথকে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না। তবুও আমি বলছি, এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত ভাড়াটে খুনি হোক বা এর নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনি পথে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কেউ রেহাই পাবে না।’
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com