১১ মে ২০২৬
preview
কুষ্টিয়ায় ড্রেন তৈরির জন্য খোঁড়া গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বিএনএন ডেস্ক

ড্রেন তৈরির কাজ শুরু করার জন্য বছরখানেক আগে মাটি খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্ষার সময় সেই গর্তে বৃষ্টির পানি জমে একাকার হয়। সোমবার বিকেলে সেই পানিভর্তি গর্তে পড়ে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলংগী গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, অবহেলার কারণে খোলা অবস্থায় ফেলে রাখা গর্তটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই ইফাত নামের ওই শিশুটিকে প্রাণ হারাতে হলো। ভুক্তভোগী পরিবার দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মারা যাওয়া শিশু ইফাত ওই এলাকার লুঙ্গি ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের ছোট ছেলে। সে স্থানীয় বায়তুল উলুম ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলেকে হারিয়ে মা শারমিন আক্তার শোকে স্তব্ধ, অন্যদিকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া বাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা মানিক শেখের বাড়ি থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়। গত বছর ঠিকাদার খননযন্ত্র দিয়ে নালা তৈরির কাজ শুরু করলেও তা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। এক বছরেও কাজ না হওয়ায় এটি এখন বিপদজনক খাদে পরিণত হয়েছে।

শিশুটির মামা স্বাধীন হোসেন জানান, সোমবার দুপুরে ইফাত তার চাচাতো ভাই সামাদের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিল। পরে সামাদ বাড়িতে ফিরলেও ইফাত ফেরেনি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ড্রেনের পানিতে তার স্যান্ডেল ভাসতে দেখে তাকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের মতে, ড্রেনের কাজ সময়মতো শেষ হলে এমনটা ঘটত না।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সময় শিশুটির বাড়িতে দেখা যায় শোকের পরিবেশ। প্রতিবেশীরা ভিড় করেছেন সান্ত্বনা দিতে, কিন্তু মা শারমিন আক্তারের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। বারবার মূর্ছা যাওয়া মা আহাজারি করছেন তার হারানো সন্তানকে নিয়ে।

শিশুটির চাচা সামছুম আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরখানেক আগে ঠিকাদার ড্রেনের নামে খাল কেটে রেখেছেন, অথচ কোনো কাজ করেননি। এই গর্তে জমে থাকা পানিই তার ভাতিজার প্রাণ কেড়ে নিল। তিনি এর বিচার দাবি করেন। এছাড়া শিশুটির অসুস্থ বাবা কামরুল হাসানকে হাসপাতালে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, লিটন আলী নামে একজন ঠিকাদার এই প্রকল্পের কাজ করছেন। লিটন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক ফারজানা আখতার এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ঠিকাদারের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা যাচাই করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ড্রেনের পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়টি তারা অবগত আছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com