১১ মে ২০২৬
preview
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে নতুন অনুপ্রবেশের আশঙ্কা: নাগরিক সমাজের উদ্বেগ

বিএনএন ডেস্ক

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে স্থায়ী স্থাপনা তৈরির ঘোর বিরোধিতা করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, গত নয় বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, বরং দুই বছরে আরও দুই লাখ রোহিঙ্গা নতুন করে এসেছে। এমতাবস্থায় স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা হলে তা নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকে উসকে দিতে পারে।

সোমবার কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে ‘কক্সবাজারে সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ‘সিএসও-এনজিও ফোরাম’ (সিসিএনএফ)-এর নেতৃবৃন্দ।

সিসিএনএফের কো-চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। নতুন করে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আসিয়ান ফোরামে কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে এবং প্রয়োজনে আরাকান আর্মির সঙ্গেও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জাতীয় সংসদে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

ফোরামের সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শরণার্থী শিবিরে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির কোনো বৈশ্বিক নজির নেই। উখিয়ায় পাহাড় কেটে এসব নির্মাণকাজ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আসার পথ সহজ করছে। এছাড়া এসব প্লাস্টিকজাত নির্মাণ সামগ্রী পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। পরিবেশকর্মী মো. ইলিয়াস মিয়া যোগ করেন, আট হাজার একর বন উজাড়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি তোলার ফলে উখিয়া-টেকনাফের পানির স্তর নিচে নেমে গেছে এবং অনেক জায়গায় লবণাক্ত পানি দেখা দিয়েছে।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক জবাবদিহিতার আওতায় আসতে হবে। স্থানীয় সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করেই এসব স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করেন, ক্যাম্পের বর্জ্যের কারণে অন্তত ৩০০ একর কৃষি জমি নষ্ট হয়েছে, যার ফলে স্থানীয়দের জীবন-জীবিকা সংকটের মুখে পড়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ভেন্ডরশিপ কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com