১১ মে ২০২৬
preview
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে

বিএনএন ডেস্ক

মেয়র শাহাদাত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, চট্টগ্রাম শহরকে বাসযোগ্য ও টেকসই করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শহরে প্রতিদিন ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য জমা হয়, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার টন সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবহেলিত বর্জ্য বিভিন্নভাবে খাল, নালা, নদী এবং উন্মুক্ত স্থানে গিয়ে পড়ছে।

সোমবার নগরের হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের মেজবান হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কথা বলেন।

সিটি করপোরেশন, ইউনিলিভার বাংলাদেশ এবং বেসরকারি সংস্থা ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা নগরের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্ব স্থাপন করেছে। এই অংশীদারত্ব আরও দুই বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায়, ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

মেয়র হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। মানুষের সচেতনতা ছাড়া খাল ও নর্দমা পরিষ্কার করার জন্য অর্থ ব্যয় করে তেমন লাভ হবে না। দ্বিতীয়ত, শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করার জন্য 'ডোর-টু-ডোর' (বাড়ি বাড়ি গিয়ে) সংগ্রহ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই প্রকল্প সফল হলে, বর্তমানে সংগ্রহের আওতার বাইরে থাকা ১ হাজার টন বর্জ্যের অর্ধেকের বেশি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান যে, খাল থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। বড় খালের গভীরে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায়, ছোট ডিঙিনৌকা ব্যবহার করে প্লাস্টিক ও পলিথিন সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এই ধরনের উদ্ভাবনী পদ্ধতির মাধ্যমে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা এবং কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে, ইউনিলিভার পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন যে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ইপসার সঙ্গে চলমান অংশীদারত্ব বর্জ্য সংগ্রহকারীদের সহায়তা, সংগ্রহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আরও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থার অধীনে আনছে, যা তাদের আয়ের সুযোগ বাড়াতে এবং নিরাপত্তা ও স্বীকৃতি প্রদানে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই জন বর্জ্য সংগ্রাহক এবং দুই জন স্ক্র্যাপ (ভাঙারি) বিক্রেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com