১১ মে ২০২৬
preview
পণ্যবাহী কনটেইনার পরিবহনে বিশ্বের সেরা ১০টি সমুদ্রবন্দর এবং তাদের সক্ষমতা

বিএনএন ডেস্ক

২০২৪ সালে সারা বিশ্বের সমুদ্রবন্দরগুলো দিয়ে আনুমানিক ৭৪ কোটি ৩০ লাখ টিইইউ (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার আদান-প্রদান করা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল পরিমাণের অর্ধেকেরও বেশি পণ্য পরিবহন হয়েছে মাত্র ২০টি প্রধান বন্দরের মাধ্যমে।

লয়েডস লিস্ট ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৫-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলোর এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। নৌপরিবহন খাতের আদর্শ একক ‘টিইইউ’ ব্যবহার করে বন্দরগুলোর এই কর্মক্ষমতা পরিমাপ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে চীনের বন্দরগুলো, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও উৎপাদনে দেশটির একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ দেয়। বিশ্বের সবচেয়ে কর্মচঞ্চল ছয়টি বন্দরের মধ্যে পাঁচটিই চীনে অবস্থিত, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সাংহাই। মূলত একটি দেশের বাণিজ্যিক শক্তি সেই দেশের বন্দরের সক্ষমতার মাধ্যমেই ফুটে ওঠে।

বিদায়ী ২০২৪ সালে সাংহাই বন্দর দিয়ে রেকর্ড ৫ কোটি ১৫ লাখের বেশি টিইইউ কনটেইনার পরিবহন করা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিঙ্গাপুর বন্দরের চেয়ে এর ব্যবধান প্রায় ১ কোটি টিইইউ। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের তথ্যমতে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত ২০টি বন্দরের তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

পোর্ট ক্লাং, মালয়েশিয়া; বার্ষিক সক্ষমতা: ১.৪৬ কোটি টিইইউ

রাজধানী কুয়ালালামপুরের কাছে মালাক্কা প্রণালির তীরে অবস্থিত পোর্ট ক্লাং মালয়েশিয়ার প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের বাণিজ্যপথের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট হাব। জ্বালানি ও শিল্পপণ্য আমদানি-রপ্তানির পাশাপাশি মালয়েশিয়ার উৎপাদনমুখী অর্থনীতিতে এই বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। এর আধুনিক লজিস্টিক ও মুক্তবাণিজ্য সুবিধা বিশ্ব বাণিজ্যে একে অনন্য করে তুলেছে।

জেবেল আলী বন্দর, সংযুক্ত আরব আমিরাত; বার্ষিক সক্ষমতা: ১.৫৫ কোটি টিইইউ

দুবাইয়ে অবস্থিত জেবেল আলী বন্দর মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম কনটেইনার টার্মিনাল। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত এই বন্দরটি এশিয়া ও ইউরোপের পণ্য পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। বন্দরের সংলগ্ন বিশাল ফ্রি জোন এবং আধুনিক অবকাঠামোর কারণে এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ। দ্রুত কাস্টমস সেবা এবং গভীর সমুদ্রের সুবিধা বন্দরটিকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করেছে।

তিয়ানজিন বন্দর, চীন; বার্ষিক সক্ষমতা: ২.৩৩ কোটি টিইইউ

উত্তর চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিয়ানজিন বন্দর মূলত বেইজিংয়ের প্রধান সামুদ্রিক গেটওয়ে। কনটেইনার পরিবহনের পাশাপাশি ভারী শিল্প ও জ্বালানি আমদানিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। উন্নত রেল ও সড়ক সংযোগের কারণে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মধ্যে এটি শক্তিশালী যোগসূত্র স্থাপন করেছে।

বুসান বন্দর, দক্ষিণ কোরিয়া; বার্ষিক সক্ষমতা: ২.৪৪ কোটি টিইইউ

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম এই বন্দরটি উত্তর-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান ট্রান্সশিপমেন্ট কেন্দ্র। জাপান, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমুদ্রপথে এর অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। শক্তিশালী লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এবং আধুনিক জাহাজ মেরামত সুবিধার জন্য পরিচিত এই বন্দরটি দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি খাতের মূল স্তম্ভ।

গুয়াংঝু বন্দর, চীন; বার্ষিক সক্ষমতা: ২.৬১ কোটি টিইইউ

পার্ল রিভার ডেল্টায় অবস্থিত গুয়াংঝু বন্দর দক্ষিণ চীনের শিল্পের প্রাণস্পন্দন। গাড়ি, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পপণ্য রপ্তানিতে এই বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথের সাথে সংযোগ থাকায় এটি বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা পায়। সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনায় এর সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে।

কিংদাও বন্দর, চীন; বার্ষিক সক্ষমতা: ৩.০৯ কোটি টিইইউ

শানতুং প্রদেশের কিংদাও বন্দর মূলত উত্তর-পূর্ব এশিয়ার একটি বিশাল বাণিজ্যিক হাব। স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে এখানে অত্যন্ত দ্রুত পণ্য খালাস করা সম্ভব হয়। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রসারে এই বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শেনজেন বন্দর, চীন; বার্ষিক সক্ষমতা: ৩.৩৪ কোটি টিইইউ

হংকংয়ের পাশেই অবস্থিত শেনজেন বন্দর চীনের প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র। বিভিন্ন টার্মিনালের সমন্বয়ে গঠিত এই বন্দরটি বিশ্বজুড়ে ই-কমার্স পণ্য সরবরাহে বিশাল ভূমিকা রাখে। অত্যন্ত দক্ষ ও দ্রুত কার্গো ব্যবস্থাপনার জন্য এই বন্দরের বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে।

নিংবো-ঝৌশান বন্দর, চীন; বার্ষিক সক্ষমতা: ৩.৯৩ কোটি টিইইউ

বিশ্বের অন্যতম গভীর সমুদ্রবন্দর নিংবো-ঝৌশান চীনের রপ্তানিমুখী অর্থনীতির প্রধান গেটওয়ে। বিশাল কার্গো ধারণক্ষমতা এবং উন্নত টার্মিনাল সুবিধার কারণে এটি দ্রুত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বন্দরে পরিণত হয়েছে। এশিয়া থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি একটি আস্থার নাম।

সিঙ্গাপুর বন্দর, সিঙ্গাপুর; বার্ষিক সক্ষমতা: ৪.১১ কোটি টিইইউ

বিশ্বের বৃহত্তম ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে সিঙ্গাপুর বন্দরের পরিচিতি বিশ্বজোড়া। মালাক্কা প্রণালির মুখে এর অবস্থান পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি সুবিধার কারণে এখানে প্রতিদিন শত শত জাহাজ নোঙর করে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।

সাংহাই বন্দর, চীন; বার্ষিক সক্ষমতা: ৫.১৫ কোটি টিইইউ

টানা কয়েক বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ ব্যস্ততম বন্দরের মুকুট ধরে রেখেছে সাংহাই। ইয়াংসি নদীর মোহনায় অবস্থিত এই বন্দরটি চীনের শিল্পাঞ্চল ও রপ্তানি খাতের মূল কেন্দ্র। উচ্চমাত্রার অটোমেশন ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ লজিস্টিক ব্যবস্থার কারণে এটি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com