১১ মে ২০২৬
preview
সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস: ঘাড় ও মেরুদণ্ডের হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যার কারণ ও সমাধান

বিএনএন ডেস্ক

ঘাড় ও মেরুদণ্ডের হাড়ের সন্ধিস্থলের একটি জটিল সমস্যা হলো সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে বর্তমানে এই সমস্যাটি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। সঠিক সময়ে পদক্ষেপ না নিলে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা না করালে এটি আপনার প্রাত্যহিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।

রোগের মূল কারণসমূহ

  • বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের স্বাভাবিক ক্ষয়জনিত পরিবর্তনের ফলে এই রোগ দেখা দেয়।

  • দীর্ঘ সময় ঘাড় নিচু করে বা বাঁকিয়ে কাজ করার ফলে ইন্টার ভারটিব্রাল ডিস্কের ওপর চাপ পড়ে এর ক্ষতি হয়।

  • ডিস্কের জলীয় অংশ কমে গেলে দুটি হাড়ের ঘর্ষণে নতুন হাড় বা ‘স্পার’ তৈরি হয়, যা এই রোগের অন্যতম লক্ষণ।

  • বংশগত কারণে অনেক সময় অল্প বয়সেই এই সমস্যায় কেউ আক্রান্ত হতে পারেন।

  • পেশাগত প্রয়োজনে যাদের দীর্ঘক্ষণ ঘাড় স্থির রাখতে হয় (যেমন কম্পিউটার ব্যবহারকারী), তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

  • অতীতে পাওয়া কোনো আঘাতের প্রভাবেও পরবর্তী সময়ে এই রোগ হতে পারে।

  • খুব বেশি শক্ত বা অতিরিক্ত নরম বালিশে ঘুমানোর অভ্যাসও এই ব্যথার জন্য দায়ী হতে পারে।

  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো কিছু শারীরিক অসুস্থতা থেকেও এই সমস্যা তৈরি হতে পারে।

হাঁপানি বা অ্যাজমার কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

রোগের প্রধান উপসর্গগুলো

  • ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।

  • পিঠের পেশিতে অস্বস্তি ও ব্যথা অনুভূত হওয়া।

  • ঘাড়ের ব্যথা ধীরে ধীরে হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া।

  • হাত অবশ মনে হওয়া বা হাতের আঙুলে ঝিঁঝিঁ ধরা।

  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো এবং মাঝে মাঝে বমি বমি ভাব হওয়া।

চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপি পদ্ধতি

এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সবার আগে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ সাময়িক স্বস্তি দেয় এবং মাসল রিলাক্স্যান্ট মাংসপেশির খিঁচুনি কমিয়ে ব্যথা উপশম করে।

নার্ভ সচল রাখতে বি-ভিটামিন সমৃদ্ধ ওষুধ দেওয়া হয়। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে এবং তীব্র প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনবোধে স্টেরয়েড বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে।

তিসি, তিল ও কুমড়া বীজের পুষ্টিগুণ এবং কাদের জন্য এটি উপযুক্ত

সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের স্থায়ী নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক ব্যায়ামের মাধ্যমে ঘাড়ের হাড়ের কার্যক্ষমতা ফিরে আসে এবং ব্যথা কমে যায়।

ইলেকট্রোথেরাপির মাধ্যমে ঘাড় ও হাতের পেশিতে রক্ত সঞ্চালন বাড়ানো হয়। এছাড়া সার্ভিক্যাল ট্রাকশনের সাহায্যে হাড়ের ওপর সৃষ্ট চাপ কমিয়ে হাতের অবশ ভাব দূর করা সম্ভব হয়।

তবে যদি ওষুধ বা থেরাপিতে কাজ না হয় এবং হাঁটাচলা করতে বা দৈনন্দিন কাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচার বা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

ডা. দিলীর জামাল, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।

রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কি বিপদের লক্ষণ?


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com