১১ মে ২০২৬
preview
জীবনে অন্তত একবার কি ‘সালাতুত তাসবিহ’ পড়া আবশ্যক?

বিএনএন ডেস্ক

নফল ইবাদতগুলোর মধ্যে ‘সালাতুত তাসবিহ’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ নামাজ। এটি বিশেষভাবে পাপ মোচন ও আত্মশুদ্ধির জন্য পরিচিত। বিভিন্ন হাদিসে এই নফল নামাজের ফজিলত উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে কিছু হাদিস তুলে ধরা হলো।

তিনটি উল্লেখযোগ্য হাদিস

১. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার পিতা আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.)-কে বলেন, ‘চাচাজান, আমি কি আপনাকে এমন একটি উত্তম তাসবিহ শেখাব না, যা আপনি পাঠ করলে আল্লাহ আপনার অতীতের এবং বর্তমানের, ইচ্ছাকৃত এবং অনিচ্ছাকৃত, ছোট এবং বড় সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন? তা হলো চার রাকাত নামাজ। প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহা ও তারপর একটি সুরা পড়বেন। প্রথম রাকাতে কিরাত পাঠের পর দাঁড়ানো অবস্থায় পনেরো বার পড়বেন: “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার”।

এরপর রুকুতে যাবেন এবং রুকু অবস্থায় পড়বেন দশবার। রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবেন এবং এই অবস্থায় তাসবিহটি দশবার পড়বেন। এরপর সিজদায় যাবেন এবং সেখানে দশবার তাসবিহটি পড়বেন। এরপর সিজদা থেকে মাথা তুলে (দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে) দশবার তাসবিহটি পড়বেন। তারপর আবার সিজদায় যাবেন এবং সে অবস্থায় দশবার তাসবিহটি পড়বেন। এরপর (দ্বিতীয়) সিজদা থেকে মাথা তুলে আরও দশবার তাসবিহটি পড়বেন।’ এভাবে প্রতি রাকাতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহটি মোট পঁচাত্তর (৭৫) বার পড়া হবে।

কেন আমরা এই নামাজ পড়তে ভুলে যাই? ইসলাম কী বলে?

চার রাকাত নামাজের প্রতি রাকাতে এই নিয়ম অনুসরণ করবেন। যদি প্রতিদিন একবার এই নামাজ পড়তে পারেন, তবে উত্তম। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে প্রতি জুমার দিনে একবার পড়ুন। তাও সম্ভব না হলে প্রতি মাসে একবার। অথবা বছরে একবার। আর যদি এটাও সম্ভব না হয়, তবে জীবনে অন্তত একবার হলেও এই নামাজটি আদায় করুন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১২৯৭)

২. আবু রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতুত তাসবিহ আদায় করবে, আল্লাহ তার পূর্বের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৭১২৮)

৩. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সালাতুত তাসবিহ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ১২১৯)

সালাতুত তাসবিহ পড়ার বিধান

সালাতুত তাসবিহ, অর্থাৎ তাসবিহ পাঠের নামাজ ওয়াজিব নয়, সুন্নাতে মুয়াক্কাদাও নয়, এবং ফরজ তো অবশ্যই নয়। এটি একটি নফল নামাজ। এর মানে হলো, সালাতুত তাসবিহ আদায় করলে আপনি সওয়াব পাবেন, কিন্তু আদায় না করলে কোনো গুনাহ হবে না। নামাজের নিষিদ্ধ ও মাকরুহ সময় ছাড়া যেকোনো সময়ে সালাতুত তাসবিহ আদায় করা যায়।

আমরা আল্লাহর প্রশংসাসূচক যে শব্দগুলো জপমালায় সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করি, তাকেই তাসবিহ বলা হয়। যেহেতু এই নামাজে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’—এই তাসবিহটি বারবার পড়া হয়, তাই একে সালাতুত তাসবিহ বা তাসবিহ পাঠের নামাজ বলা হয়।

নামাজে ভুলের কারণে সিজদা কখন এবং কীভাবে দিতে হয়

সালাতুত তাসবিহ আদায়ের নিয়ম

সালাতুত তাসবিহ আদায়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো—এটি চার রাকাত নামাজ। প্রতি রাকাতে ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ তাসবিহগুলো মোট পঁচাত্তর (৭৫) বার পড়তে হয়। চার রাকাতে সর্বমোট তিনশত (৩০০) বার এই তাসবিহ পড়া হয়।

  • প্রথম রাকাতে সানা পড়ার পর দাঁড়ানো অবস্থায় পনেরো (১৫) বার পড়বেন: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’।

  • তারপর সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা পাঠ শেষ হওয়ার পর, রুকুতে যাওয়ার আগে দাঁড়ানো অবস্থায় দশ (১০) বার।

  • রুকুতে তাসবিহ পড়ার পর দশ (১০) বার।

  • রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর (রাব্বানা লাকাল হামদ পড়ার পর) দশ (১০) বার।

  • প্রথম সিজদায় তাসবিহ পড়ার পর দশ (১০) বার।

  • প্রথম সিজদা থেকে মাথা তোলার পর (দুই সিজদার মাঝে) দশ (১০) বার।

  • পুনরায় দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে দশ (১০) বার। এরপর দ্বিতীয় সিজদা থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য একইভাবে তাসবিহ পাঠ করতে হবে।

কিছু বিশেষ নিয়ম:

  • নামাজের কোনো এক স্থানে তাসবিহ পড়তে ভুলে গেলে বা সংখ্যায় কম পড়লে, যখনই আপনার মনে পড়বে, সেই রুকনেই ভুলে যাওয়া তাসবিহগুলো আদায় করে নেবেন। তবে কওমা (রুকু থেকে দাঁড়ানো) এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে পূর্বের ভুলে যাওয়া তাসবিহগুলো আদায় করা যাবে না।

  • এই নামাজে কোনো কারণে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হলে, সেই সিজদা এবং এর মধ্যকার বৈঠকে তাসবিহ পাঠ করতে হবে না।

  • যদি আপনি তাসবিহর সংখ্যা ভালোভাবে মনে রাখতে পারেন, তবে আঙুলে গণনা না করাই শ্রেয়। এতে নামাজের একাগ্রতা (খুশু-খুদু) নষ্ট হয় না। তবে যদি ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে আঙুলের ডগা চেপে বা অন্য কোনো উপায়ে গণনা করা জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার: ২/২৮)

তাহিয়্যাতুল অজুর নামাজ


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com