১১ মে ২০২৬
preview
মুখোশের অন্তরালে: পর্ব - ২

বিএনএন ডেস্ক

‘মানে?’ — এই প্রশ্নটি বিকেলের নীরবতাকে যেন ভেঙে চুরমার করে দিল। সনাতন তৎক্ষণাৎ জবাব দিল না। সে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে সংযত করল, তারপর অত্যন্ত ধীর ও আর্দ্র কণ্ঠে বলল—

​‘শামীম, আমাদের এই স্বল্পকালীন জীবনে আমরা কত রকমের বিচিত্র মুখোশই না পরিধান করি! অথচ তুই কি জানিস, আমি এমন অনেক মানুষকে দেখেছি যারা সত্যিই পরোপকারী। তারা কোনো কিছুর বিনিময়ে কিছু চায় না, কোনো প্রশংসার প্রত্যাশীও নয়; তারা শুধু চায় সমাজের প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষগুলো একদিন আত্মমর্যাদা নিয়ে সামনের কাতারে দাঁড়াতে পারুক। এই যে মানবজাতিকে রক্ষা করে সামনে এগিয়ে নেওয়ার অদম্য ইচ্ছা, এটি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত এক পবিত্র প্রেম। কিন্তু এর বিপরীত দিকেই রয়েছে এক ভয়াবহ শূন্যতা ও হতাশা।’

​শামীম পাথরের মূর্তির ন্যায় স্থির হয়ে থাকল। সনাতন তার চোখের গভীরে সরাসরি তাকিয়ে বলে চলল, ‘একশ্রেণির মানুষ আছে যারা কেবল নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ভালোবাসার ভান করে। তারা মানুষের উপকার করে বটে, কিন্তু নেপথ্যে তাদের প্রতিটি কাজ মাপা হয় ব্যক্তিগত লাভের মানদণ্ডে। এই ধরনের ভালোবাসা অন্তর থেকে আসে না রে শামীম; এটি শুধু নিজেকে উচ্চ আসনে প্রতিষ্ঠিত করার একটি স্বার্থপর উপায় মাত্র। এই লোকগুলো বাইরে দেবদূতের মতো আচরণ করলেও তাদের অন্তরে থাকে তীব্র বিদ্বেষ। তারা চায় না কেউ তাদের চেয়ে সফল হোক। তাই তারা কথার তীক্ষ্ণ বাণে অন্যকে জর্জরিত করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্যদের দমিয়ে রাখে যাতে তাদের ভুয়া কর্তৃত্ব বজায় থাকে।’

নাগরিক সংবাদ বিভাগে জীবনের গল্প, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকবৃন্দ। যোগাযোগ: ns@email.com

​এবার সনাতন শামীমের কাঁধে হাত রাখল। সেই হাতের স্পর্শে এক বিচিত্র স্নেহ ও শাসনের অপূর্ব মিশ্রণ ছিল। সে কম্পিত কণ্ঠে বলল, ‘তবে কি তুই জানিস শামীম? আমাদের ধর্ম শিক্ষা দেয় যে—সৃষ্টিকর্তা কারো জন্য ক্ষমা ও অনুতাপের দ্বার বন্ধ করেননি। মানব হিসেবে ভুল করা হয়তো অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু সেই ভুলকে অবলম্বন করে অহংকারে ডুবে থাকাটা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ। নিজের তুচ্ছ লাভের জন্য কারো হৃদয়ে চাবুকের ন্যায় আঘাত করা কি প্রকৃতপক্ষে আমাদের মানবিকতা? শামীম, যদি অনুতাপের একটিমাত্র অশ্রুবিন্দুও চোখের কোণ বেয়ে ঝরে পড়ে, তবে সেই জলে দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সমস্ত কলঙ্ক ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যায়। সৃষ্টিকর্তা তো তাঁর বান্দাদের ফিরে আসার জন্য বারবার সুযোগ দেন।’

​শামীমের চোখের তারা এবার নিশ্চল হয়ে গেল। তার কপালের শিরাগুলো কাঁপছিল, যেন তার অন্তরের কোনো এক ভয়াবহ দ্বন্দ্ব বাইরে প্রকাশ পেতে চাইছে। সে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে কেবল আবারও অস্ফুট কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, ‘মানে?’

​বিকেলের শেষ রক্তিম আভা তখন সম্পূর্ণ মিলিয়ে গেছে। অন্ধকারের বুক চিরে সনাতনের শেষ কথাটি শামীমের কানে এক পবিত্র মন্ত্রের মতো প্রতিধ্বনিত হতে লাগল— ‘এর অর্থ হলো শামীম, সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আগে নিজের প্রতিবিম্বের সামনে দাঁড়ানো অত্যন্ত আবশ্যক। মুখোশটা মানুষের সামনে উন্মোচিত হওয়ার চেয়ে নিজের হাতে খুলে ফেলে সৎ পথে ফিরে আসা কি অধিকতর সম্মানজনক নয়? যারা ভুল করেছে, তারা কি এখনো তওবা করে সৎ ও সঠিক পথে ফিরে আসতে পারে না?’ ধারাবাহিক...

মুখোশের অন্তরালে: পর্ব - ১


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com