১০ মে ২০২৬
preview
তামিলনাড়ুতে ‘একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ থালাপতি বিজয়ের

বিএনএন ডেস্ক

ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় এসেছে। চার দিনের রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার পর ‘থালাপতি’ সি জোসেফ বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দক্ষিণী এই রাজ্যে তিনিই হবেন ক্ষমতার অবিসংবাদিত কেন্দ্রবিন্দু।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে বিজয় ঘোষণা করেন, ‘আমি ছাড়া ক্ষমতার অন্য কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হব ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নীতি নির্ধারণে নিজের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

তাঁর এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি তামিলনাড়ুর জনগণকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন যে, টিভিকে-নেতৃত্বাধীন সরকার কোনো শরিকের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না।

নিজেকে ‘থাম্বি’ বা ছোট ভাই হিসেবে উল্লেখ করে বিজয় তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা 'অপকর্ম' করে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের সেই পরিকল্পনা পরিত্যাগ করা উচিত।

বিজয় আরও বলেন, ‘আমি কোনো অন্যায় করব না এবং আমার সহকর্মীদেরও অন্যায় করতে দেব না। যদি কারও মনে কোনো বিদ্বেষ থাকে, তবে তা অবিলম্বে ত্যাগ করা উচিত।’

ডিএমকে জোট শরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন লাভে ডিএমকে (দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম) জোটের শরিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন থালাপতি বিজয়। তিনি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও তাঁর ‘ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন।

বিজয় বলেন, ‘আমি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধী দলনেতা আমার ভাই রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই কে সি ভেনুগোপাল, সেলভাপেরুন্থাগাই এবং প্রবীণ চক্রবর্তীকে। এছাড়াও সিপিএম নেতা পি শানমুগাম ও সু ভেঙ্কটেশন, ভিসিকে নেতা থোল তিরুমাভালাবন, রবিকুমার ও ভান্নিয়ারাসু এবং সিপিআই নেতা এম বীরাপান্ডিয়ানকেও আমার আন্তরিক ধন্যবাদ।’

টিভিকে দলের সকল কর্মী এবং অনলাইন সমর্থক ‘ভার্চুয়াল যোদ্ধাদের’ প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

“আমি কোনো সাধারণ মানুষ নই, তবে…”

তামিলনাড়ুর জনগণের উদ্দেশে নিজেকে ‘মামা’ হিসেবে সম্বোধন করে বিজয় বলেন, তিনি কোনো দেবদূত নন, বরং সাধারণ মানুষের মতোই একজন।

থালাপতি বিজয় আরও বলেন, ‘আমরা যা করতে পারব না, তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেব না। তবে আমার বিশ্বাস, আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সবকিছুই অর্জন করতে পারব। আমি আপনাদের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নিচ্ছি। আমি আমার প্রতিশ্রুত সকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব। আমি জনগণের টাকার একটি পয়সাও স্পর্শ করব না।’

বিজয় মন্ত্রিসভার পরিচিতি

বিজয়ের সাথে টিভিকে দলের আরও ৯ জন নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।

এই মন্ত্রিসভার অন্যতম পরিচিত মুখ হলেন এআইএডিএমকে দলের প্রবীণ নেতা কে এ সেনগোত্তাইয়ান, যিনি কয়েক দশক ধরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এমজিআর এবং জয়ললিতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

এছাড়াও, বিজয়ের অন্যতম বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত আধাভ অর্জুনা এবং বাগ্মী হিসেবে পরিচিত টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব রাজ মোহনও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দন্তচিকিৎসক থেকে রাজনীতিতে আসা টি কে প্রভু এবং মন্ত্রিসভার কনিষ্ঠ সদস্য এস কীর্তনাও শপথ গ্রহণ করেছেন।

কংগ্রেস, সিপিআই (এম), ভিসিকে এবং আইইউএমএল দলের যেসব নেতা টিভিকে সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন, তারা পরবর্তীতে দপ্তর বন্টনের আলোচনা শেষে শপথ নিতে পারেন।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com