১০ মে ২০২৬
preview
বিএনপি নিজেদের মতো করে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন করতে চাইছে: গোলাম পরওয়ার

বিএনএন ডেস্ক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত যে প্রস্তাবগুলিতে ভিন্নমত পোষণ করেছিল, সেগুলো গণভোটে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি 'জুলাই সনদের মূল ভাবনা' অনুযায়ী নয়, বরং নিজেদের সুবিধামতো এটি বাস্তবায়ন করতে চায়।

রবিবার চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘১১-দলীয় ঐক্যের গণভোটের রায়: জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায়ের বহিঃপ্রকাশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন নগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ 'জুলাই সনদ' 'অক্ষরে অক্ষরে' বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও, তারা গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো কথা বলছেন না।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও জানান যে, 'জুলাই সনদ'-এর সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত ৮ থেকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমত প্রকাশ করেছিল। তার দাবি অনুযায়ী, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে সেই ভিন্নমতগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি যেসব বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছিল, সেগুলোই 'স্বৈরাচার তৈরির হাতিয়ার'। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণ সরাসরি রায় দিয়েছে এবং সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এই গণভোটের রায়কে সর্বোচ্চ জনমত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সরকারদলীয় নেতাদের সংবিধান, সাংবিধানিক আইন এবং রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে আরও জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। রাষ্ট্র পরিচালনা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ক্ষমতা প্রসঙ্গে তাদের 'গভীর উপলব্ধির অভাব' রয়েছে।

মোহাম্মদ শিশির মনির আরও বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি সাংবিধানিক, রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি করতে পারে। তিনি সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন যে, গণভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের সরাসরি প্রতিফলন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে তার চারপাশের চাটুকারদের পরিবেষ্টন থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে হবে। তিনি বলেন, 'ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা এবং জনগণের সমর্থন অপরিহার্য।'

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা জহিরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এমদাদ উল্লাহ, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়ক মীর শোয়াইব ও আরিফ মঈনুদ্দীন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম উত্তর জেলার নায়েবে আমির শিহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম চট্টগ্রাম মহানগরের আমির মাওলানা জিয়াউল হোসাইন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মুহাম্মদ আনাস।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com