বিএনএন ডেস্ক
নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। তাদের ক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর, তৃণমূল কংগ্রেস এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে।
৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এর ফলস্বরূপ, দল থেকে অনেককে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত শনিবার তিনজন মুখপাত্রকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ক্ষমতায় না থাকার কারণে এই ধরনের পদক্ষেপে তৃণমূলে ঐক্য ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে।
তৃণমূলের পরিচিত মুখ রিজু দত্ত সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি নেতাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। রিজু দাবি করেছেন, অতীতে তৃণমূলের চাপে পড়ে তিনি বিজেপি নেতাদের সমালোচনা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি বিজেপির সমর্থন ও নিরাপত্তার প্রশংসা করছেন। দল থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে ২০২৬ সালের নির্বাচনে টিকিট দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল, যা তিনি দিতে রাজি হননি।
মমতার মন্ত্রিসভায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন মনোজ। তিনি তৃণমূল সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের কঠোর সমালোচনা করেছেন। মনোজের দাবি, অরূপ বিশ্বাসের খেলাধুলা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই এবং গত বছর লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে বিশৃঙ্খলার জন্য তিনি অরূপকেই দায়ী করেছেন।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কোহিনূর মজুমদার ও কার্তিক ঘোষকেও বরখাস্ত করেছে তৃণমূল। কোহিনূর মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে দলের বড় নেতাদেরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো।’
মালদহের এক বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীও পরাজয়ের জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, অভিষেকের কাজের ধরণ এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবমূল্যায়নের কারণেই দলের এই বিপর্যয় ঘটেছে।
কোচবিহারের নেত্রী পাপিয়া ঘোষও নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং দলীয় শাস্তির মুখে পড়েছেন। পাপিয়ার বাবা, বর্ষীয়ান নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষও প্রকাশ্যে অভিষেকের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
দলের এই টালমাটাল অবস্থা নিয়ে তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র এবং রাজ্যসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শর্মিলা ভট্টাচার্যও এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com