বিএনএন ডেস্ক
যখন মানুষের সকল অবলম্বন ফুরিয়ে যায়, তখন একমাত্র আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসাই তাকে মুক্তি দিতে পারে। এই গভীর বিশ্বাসের নামই হলো ‘তাওয়াক্কুল’।
আল্লাহর উপর পূর্ণ নির্ভরতা কেবল মানসিক শান্তিই দেয় না, বরং অসম্ভবকে সম্ভব করার শক্তিও জোগায়। তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর ভরসা গড়ে তোলার ১০টি কোরআনি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:
জীবনের কঠিনতম সময়ে যখন চারপাশ থেকে প্রতিকূলতা ঘিরে ধরে, তখন আল্লাহর উপর ভরসাই শ্রেষ্ঠ আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়।
উচ্চারণ: ওয়া মান ইয়াতাওয়াক্কাল আলাল্লাহি ফাহুওয়া হাসবুহু।
অর্থ: আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কার্য সম্পাদনকারী। (সূরা তালাক, আয়াত: ৩)
ঈমানের পূর্ণতা অর্জিত হয় আল্লাহর উপর নির্ভরতার মাধ্যমে। মুমিনরা দৃশ্যমান উপকরণের চেয়ে অদৃশ্য আল্লাহর শক্তির উপর বেশি আস্থা রাখে।
উচ্চারণ: ইন্নামাল মুমিনুনাল্লাযিনা... ওয়া আলা রাব্বিহিম ইয়াতাওয়াক্কালুন।
অর্থ: মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তর কেঁপে ওঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়... এবং যারা তাদের রবের উপর ভরসা করে। (সূরা আনফাল, আয়াত: ২)
তাওয়াক্কুল কেবল একটি ভালো গুণ নয়, বরং এটি ঈমানের সত্যতার একটি মাপকাঠি।
উচ্চারণ: ওয়া আলাল্লাহি ফাতাওয়াক্কালু ইন কুনতুম মুমিনীন।
অর্থ: আর তোমরা আল্লাহর উপরই ভরসা করো, যদি তোমরা মুমিন হও। (সূরা মায়িদা, আয়াত: ২৩)
পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা করার পর যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন ফলাফলের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়াই হলো তাওয়াক্কুল।
উচ্চারণ: ফা ইযা আযামতা ফাতাওয়াক্কাল আলাল্লাহ।
অর্থ: অতঃপর যখন তুমি কোন সংকল্পে স্থির হবে, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)
পৃথিবীর সকল শক্তি একদিকে থাকলেও আল্লাহর সাহায্য যার সাথে থাকে, তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না।
উচ্চারণ: ইন ইয়ানসুরকুমুল্লাহু ফালা গালিবা লাকুম।
অর্থ: যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের উপর কেউ বিজয়ী হতে পারবে না। আর মুমিনদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬০)
ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে অজানা হলেও আল্লাহর কাছে তা সম্পূর্ণ স্পষ্ট। তাই সকল বিষয়ের চূড়ান্ত ভার তাঁর উপর অর্পণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
উচ্চারণ: ফা’বুদহু ওয়া তাওয়াক্কাল আলাইহ।
অর্থ: সুতরাং তুমি তাঁরই ইবাদত করো এবং তাঁর উপর ভরসা করো। (সূরা হুদ, আয়াত: ১২৩)
বিপদ-আপদে আল্লাহর করুণার উপর ভরসা রাখলে অন্তর প্রশান্ত থাকে। এটি মুমিনের জীবনের এক বড় দোয়া।
উচ্চারণ: কুল হুয়ার রাহমানু আমান্না বিহি ওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালনা।
অর্থ: বলো, তিনিই পরম দয়ালু, আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপরই ভরসা করেছি। (সূরা মুলক, আয়াত: ২৯)
আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তার বাইরে কিছু ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই বিশ্বাসই তাওয়াক্কুলের ভিত্তি।
উচ্চারণ: কুল লাই ইউসিবানা ইল্লা মা কাতাবাল্লাহু লানা।
অর্থ: বলো, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছাবে না। তিনিই আমাদের অভিভাবক। (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৫১)
মানুষের গোপন চক্রান্ত বা শয়তানের কুমন্ত্রণা কোনোটিই আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ক্ষতি করতে পারে না, যদি আল্লাহর উপর ভরসা থাকে।
উচ্চারণ: ওয়া লাইসা বিদাররিহিম শাইআন ইল্লা বিইযনিল্লাহ।
অর্থ: অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া শয়তান মুমিনদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর মুমিনদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত। (সূরা মুজাদালাহ, আয়াত: ১০)
আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার অন্যতম সহজ উপায় হলো সকল কাজে তাঁর উপর নির্ভর করা।
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাহা ইউহিব্বুল মুতাওয়াক্কিলিন।
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের (ভরসাকারীদের) ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)
পরিশেষে, তাওয়াক্কুল মানে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়, বরং সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর উপর সোপর্দ করা। এই মনোভাব মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিলেও বিনয়ী রাখে, এবং ব্যর্থতার অন্ধকারেও বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়।
বি: দ্র: সাধারণ পাঠকদের সুবিধার জন্য এখানে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য মূল আরবি আয়াত দেখে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com