৯ মে ২০২৬


আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস নয়
বিএনএন ডেস্ক
বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়। অনুষ্ঠানে এক হাজারের বেশি নেতা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করতে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের উপর জোর দিয়েছেন। বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কাউকে 'জিতিয়ে আনা' হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে শনিবার বিএনপি ও এর তিন সহযোগী সংগঠন—যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির প্রথম বড় সাংগঠনিক সভা। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, সব বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল—এই তিন সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচজন করে শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ক আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রয়াত বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশাল জানাজার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জনগণ তাঁদের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছে, তার প্রতিদান বিএনপিকে দিতে হবে। এজন্য নেতা-কর্মীদের জনগণের পাশে থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি কাউকে জিতিয়ে আনতে পারবেন না। সবাইকে জনগণের আস্থা অর্জন করে মাঠে কাজ করে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো প্রশাসনিক প্রভাব বা দলীয় সুবিধা দিয়ে কাউকে জিতিয়ে আনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন যেখানে তিনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দলের নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন যে, দলের সমর্থন ও সমন্বয় ছাড়া সরকার সফল হতে পারবে না। তাই, জনগণের কাছে করা সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচনের আগে নতুন সংগ্রামে নামতে হবে।
বিএনপি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা: মির্জা ফখরুল
পরিচয় বিবেচনা করা হবে না
বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের মনোভাব ছিল মতবিনিময় সভার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। একজন নেতা জিয়াউর রহমানের সময়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদাহরণ দিয়ে বলেন, তখন মানুষ দরজা খোলা রেখে ঘুমাত। সে ধরনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আস্থার সাথে বসবাস করতে পারে এবং এটি বর্তমান পুলিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব। পরবর্তীতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সবাইকে সতর্ক করে বলেন যে, যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এজন্য যা যা করার করা হবে এবং এক্ষেত্রে কারো পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যাদের ভুলত্রুটি আছে, তাদের সেগুলো শুধরে নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শিথিলতার ইঙ্গিত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে অভিযোগ করেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শিথিল হয়ে গেছে কিনা। তিনি জানান যে, দীর্ঘ আন্দোলন ও দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও, এখন থেকে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে। ভবিষ্যতে আর শিথিলতা দেখা হবে না, বরং কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। তাই নিজেদের মধ্যে বিভেদ কমিয়ে আনতে হবে। জানা গেছে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা মন্ত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। যেমন, শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনার কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়, কারণ এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলে কেউ কেউ মত প্রকাশ করেন।
এক নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান যে, নির্বাচনের আগে প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রতিশ্রুতি কোন পর্যায়ে আছে। এছাড়াও, এ পর্যন্ত ১৬৫ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে কিনা, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের কাছে প্রশ্ন ছিল যে, কিছু হলেই রোগীদের ঢাকায় আনা হয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না। এছাড়াও, অনেক নেতা রেল, রাস্তাঘাট, সেতু সহ বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মন্ত্রীরা সমস্যা সমাধানে নেতাদের আশ্বস্ত করেন। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ। তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন বর্তমানে যেসব কাজ হচ্ছে, সেগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ। বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপির একজন উচ্চপর্যায়ের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, এই মতবিনিময় সভার মূল বার্তা হলো দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা। উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসা অর্জনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নেতা-কর্মীদের বিভেদ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রতি তিন-চার মাস অন্তর মন্ত্রী ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে, যাতে মন্ত্রীদের জবাবদিহির পাশাপাশি সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ এবং পরিকল্পনাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছায়।

সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com