৯ মে ২০২৬
preview
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব নিয়ে তাহরিন তাহরীমা চৌধুরীর বিশেষ গবেষণা

বিএনএন ডেস্ক

প্রতি বছর বৈশাখের বিশেষ সংখ্যায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিভাবান ও সফল তরুণদের জীবনকাহিনি তুলে ধরা হয়। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বিশেষ আয়োজনে খেলাধুলা, অভিনয়, ব্যবসা ও গবেষণার মতো বৈচিত্র্যময় খাতে নেতৃত্ব দেওয়া ৭ জন তরুণকে পরিচিত করানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ তাহরিন তাহরীমা চৌধুরীর অসামান্য পথচলার গল্প এখানে তুলে ধরা হলো।

গবেষণার জগতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন তাহরিন তাহরীমা চৌধুরী। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) একজন গবেষণা ফেলো এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) অ্যাগ্রিকালচারাল ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রামে উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ হিসেবে দায়িত্বরত। তৃণমূল পর্যায়ে গবেষণার অভিজ্ঞতাই তাঁর কাজকে করেছে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত ও গভীর।

ঢাকার মেয়ে তাহরিন ২০০২ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে এসএসসি সম্পন্ন করেন। সে বছর মানবিক বিভাগ থেকে সারা দেশে যে চারজন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র ছাত্রী। এই অভাবনীয় সাফল্যের কারণে তিনি সংবাদপত্রের শিরোনামে আসেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নেন। শুরুতে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরবর্তী সময়ে অর্থনীতির প্রতি প্রবল অনুরাগের কারণে তিনি এই পথকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনার সময় তাঁর জন্য বড় বাধা ছিল গণিত। তবে মেধা ও শ্রমের সমন্বয়ে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—উভয় পরীক্ষাতেই প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন এবং স্নাতকোত্তরে মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

পেশাজীবনের শুরুতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও দ্রুতই গবেষণার আঙিনায় পা রাখেন তাহরিন। বিআইডিএসে গবেষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর অভিজ্ঞ গবেষকদের ছায়াতলে তিনি গবেষণার কারিগরি দিকগুলো রপ্ত করেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আংশিক বেকারত্ব। গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানের স্নাতক সম্পন্ন করা প্রায় ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী তাঁদের পছন্দমতো পূর্ণকালীন কাজ পান না এবং টিউশনি বা কল সেন্টারের মতো খণ্ডকালীন পেশায় যুক্ত থাকেন।

বিআইডিএসের তৎকালীন মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরীর অধীনে বিনিয়োগ পরিমাপ পদ্ধতি নিয়ে তাঁর কাজ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সংস্কারে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি এবং দক্ষতার অভাব নিয়ে কাজ করে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত হয়েছেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি জ্বালানি ভর্তুকি নিয়ে কাজ করেছেন এবং তাঁর গবেষণাপত্র কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রশংসিত হয়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং কোভিড-১৯-এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সাথে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশ্লেষণে তিনি ইফপ্রি-র সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে পারিবারিক দায়িত্ব ও প্রতিকূলতার কারণে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও তখন যেতে পারেননি। বর্তমানে তিনি পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে ফিরে এসে দেশের অর্থনৈতিক গবেষণায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

মীর মেহেদীর প্রতিষ্ঠিত পিৎজাবার্গ থেকে প্রতিদিন চার হাজারের বেশি পিৎজা গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com