বিএনএন ডেস্ক
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু জ্বালানি তেল নয়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দামও। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, এপ্রিলে তাদের খাদ্য মূল্যসূচক গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের বাজারদর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি মাসে প্রকাশিত এই সূচকের মান এপ্রিলে ১৩০ দশমিক ৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা মার্চ মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবারের সূচক প্রায় ২ শতাংশ বেশি হলেও, ২০২২ সালের রেকর্ড উচ্চতার চেয়ে এটি এখনো ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে বিশ্ববাজারে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাই মাসের পর সর্বোচ্চ। মূলত পাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণেই ভোজ্যতেলের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা এবং জৈব জ্বালানির বাড়তি চাহিদা এই দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে জৈব জ্বালানি তৈরিতে তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সরবরাহ সংকটের কারণে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম চড়া রয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে খাদ্য মূল্যসূচক ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৪৪ পয়েন্ট ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ২০২৩ সালে কিছুটা কমে ১২৪-এ নেমে আসে। তবে এ বছর এপ্রিলে সূচকটি আবারও ১৩০-এর ঘর অতিক্রম করায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য দুশ্চিন্তা বাড়ছে। খাদ্য ও জ্বালানি উভয়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এপ্রিলে দেশের বাজারেও মূল্যস্ফীতির আঁচ
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরেও। বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সাথে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হারও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে। নিত্যপণ্যের এই আকাশছোঁয়া দামের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ, কারণ তাদের উপার্জনের একটি বড় অংশই ব্যয় করতে হয় খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com