বিএনএন ডেস্ক
ফুটপাতের দোকান, পরিবহন স্ট্যান্ড, বাজার, নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং বস্তির অবৈধ সংযোগ থেকে দৈনিক বা মাসিক চাঁদা আদায় করা হয়। এই দৃশ্যমান চাঁদাবাজির আড়ালে রয়েছে এক ভয়ংকর চিত্র – ১৪৮ জন অস্ত্রধারী পেশাদার সন্ত্রাসী রাজধানীতে সক্রিয়। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, এই সন্ত্রাসীরা শীর্ষ অপরাধীদের পক্ষে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজ করে। বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর হয়েও অনেকে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থনও পায় এদের কেউ কেউ, এমনটাই বলছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তালিকা বলছে যে, অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের মধ্যে গুলশান, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকাতেই তাদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে সক্রিয় মোট ১ হাজার ২৮০ জন চাঁদাবাজের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকা অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১৪৮ জনই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী।
ডিএমপির তথ্যমতে, এই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রধানত গুলশান, বাড্ডা এবং রামপুরা অঞ্চলে বেশি সক্রিয়।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, গুলশান, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ঝুট ব্যবসা, ইন্টারনেট সংযোগ, ফুটপাতের দোকান, কাঁচাবাজার ও মাছের বাজার থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হয়। বিশেষ করে মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টে ৬০টি প্লট দখল করে গড়ে ওঠা মাছের বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ টাকা চাঁদা তোলে এই সন্ত্রাসীরা।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গুলশান ১, গুলশান ২ এবং শাহজাদপুর অঞ্চলের ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। এছাড়া, গুলশান ও বনানীর স্পা সেন্টারগুলো থেকে প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদাবাজির অভিযোগও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত আছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গুলশান-বাড্ডা-বনানী এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং অন্যান্য অপরাধ কয়েকটি সুপরিচিত পেশাদার সন্ত্রাসী দল নিয়ন্ত্রণ করে। এদের মধ্যে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের 'জিসান গ্রুপ' উল্লেখযোগ্য, যারা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তোলে। একইভাবে, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদের বাহিনীও এ অঞ্চলে সক্রিয়। এছাড়া, রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপ এবং 'কলিং' মেহেদী গ্রুপও গুলশান-বাড্ডা এলাকায় সক্রিয়।
গুলশান ১, গুলশান ২ এবং শাহজাদপুরে ফুটপাতের দোকান থেকে দৈনিক ২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত এবং গুলশান ও বনানীর স্পা সেন্টারগুলো থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপের সদস্যরা। অন্যদিকে, বাড্ডা, গুলশান ও মহাখালী এলাকায় ভাড়াটে খুনসহ নানা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত 'কলিং' মেহেদী গ্রুপ।
বারিধারা এলাকার কয়েকজন গাড়ি ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, শীর্ষ সন্ত্রাসীর পরিচয়ে তাদের কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় তাদের দোকানের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও হুমকি বন্ধ হয়নি।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশে অবস্থানরত কিছু সন্ত্রাসীর নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তার মতে, জিসান ও সুব্রত বাইনের সহযোগীরা ছাড়াও গুলশান, ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় কলিং মেহেদী ও মাহবুব গ্রুপের সদস্যরা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তানভীর আহমেদ বলেছেন, বিদেশে বসে অনেকে গুলশান, বনানী, বাড্ডা এলাকায় চাঁদাবাজির চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ তাদের বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অপরাধী দলের সদস্যদের নিয়মিত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
গুলশান, মহাখালী, বাড্ডা, রামপুরা, মগবাজার এলাকায় সক্রিয় পেশাদার সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে জিসান গ্রুপের সদস্য সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পুলিশের তালিকায় এই গ্রুপের যেসব অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর নাম রয়েছে, তারা হলেন: শামীম, জাকির হোসেন, আবুল বাশার বাদশা, কায়সার (গলাকাটা কায়সার), মহারাজ মিয়া, শফিকুল ইসলাম হেলাল, তানভীর, আরিফ হোসেন রিপন, আবু সাঈদ রাসেল, কাওসার মোল্লা (কানা কাওসার), সায়মন, বরিশাইল্যা শান্ত, নাহিদ, মামুন, রাব্বী, মিনহাজ, আরিফ (পিস্তল আরিফ) ও শুভ (ঘাতক শুভ)।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, জিসান গ্রুপের আরও অনেক সদস্য রয়েছেন যাদের নাম তালিকায় নেই। এদের মধ্যে আশিক, মাহবুব, বাদল, মগবাজারের পিঙ্কু, গোড়ানের সুজন এবং রামপুরার শাহজাদা উল্লেখযোগ্য। পুলিশের কাছে তথ্য আছে যে, জিসান বিদেশে বসেই দেশে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
'কলিং' মেহেদী বাহিনীর প্রধান মেহেদী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই তিনি তার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। মেহেদী একসময় সরকারি তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। তার বাহিনীর তালিকাভুক্ত সদস্যরা হলেন: ওয়াসির সাঈদ (বড় সাঈদ), দুলাল হোসেন, আবদুল মান্নান, মোরছালিন হায়দার বাবু, আবদুর রহমান রুবেল, সাইফুল, ইমরান, ময়লা সাঈদ, মারুফুল ইসলাম পলক, মোবিনুল ইসলাম বাঁধন, রায়হান শরীফ মানিক, সজল মিয়া, অর্ণব সাঈদ, হোসেন শাওন, তপন, রবিউল, খোকন, জিয়া, ইসমাইল, হৃদয় (চোরা হৃদয়), বুলেট বাবু, সোহেল (কান্নি সোহেল), আমির হোসেন বাবু, এস এম আমিনুল হক, তানভীর ইসলাম, নুর আলম, রনি ও হাবিবুর রহমান।
বিদেশে অবস্থান করে অনেকেই গুলশান, বনানী ও বাড্ডা এলাকায় চাঁদাবাজির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং যেকোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তানভীর আহমেদ
রবিন-ডালিম-মাহবুব বাহিনীর সদস্য ও অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের তালিকায় বাড্ডা এলাকার সাইমন মাসুম, আনিসুর রহমান সীমান্ত, ইকবাল হোসেন, সালাউদ্দিন সালু, শফিকুল ইসলাম, হেলাল, সাব্বির হোসেন, রুবেল, শাহ মোহাম্মদ, শালমান ও মফিজুর রহমানের নাম রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রবিন-ডালিম-মাহবুব গ্রুপ বাড্ডার অপরাধমূলক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। পুলিশ সূত্রমতে, এই গ্রুপের তিন প্রধান নেতা বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই তাদের দল পরিচালনা করছেন। তাদের সদস্যরা বাড্ডা অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির পাশাপাশি ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কাজ করে।
বিভিন্ন স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে যে, সুব্রত বাইনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সহযোগী, যেমন ফেন্সি বাশার, শুটার নয়ন, ড্রাইভার ওসমান এবং শুটার বাপ্পী (মতিঝিলের), পুলিশের তালিকায় অনুপস্থিত। এছাড়া, অপরাধ জগতে সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত ওয়াসির সাঈদ (বড় সাঈদ), যিনি মেহেদী গ্রুপের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং অস্ত্রের মজুতদার হিসেবেও পরিচিত।
সুব্রত বাইনের গ্রুপের যে অস্ত্রধারীদের নাম তালিকায় এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন মেহেদী হাসান ওরফে দীপু (যিনি অস্ত্র মজুতকারী ও চাঁদাবাজির সমন্বয়কারী), মাহফুজুর রহমান ওরফে বিপু, আরাফাত ইবনে নাসির, শরীফ ও মধু। গত ফেব্রুয়ারিতে বাড্ডার ব্যাপারীপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে মেহেদী হাসান ওরফে দীপুকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করে। সেদিন তার বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১১টি বিদেশি অস্ত্র এবং ৩৯৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল।
তবে, স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রমতে, সুব্রত বাইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর নাম তালিকায় আসেনি। এদের মধ্যে ফেন্সি বাশার, শুটার নয়ন, ড্রাইভার ওসমান এবং শুটার বাপ্পী (মতিঝিলের) অন্যতম। এছাড়া, সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ওয়াসির সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ, যিনি মেহেদী গ্রুপের একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং অপরাধ জগতে অস্ত্রের মজুতদার হিসেবে পরিচিত, তিনিও এই তালিকায় অনুপস্থিত।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সুব্রত বাইন দীর্ঘদিন ভারতে কারাবন্দী ছিলেন। অন্যদিকে, মোল্লা মাসুদ ভারত থেকেই তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশে পরিচালনা করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর সুব্রত বাইন হঠাৎ করেই ঢাকার অপরাধ জগতে ফিরে আসেন এবং একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনায় আসেন।
২০২৫ সালের ২৭ মে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে কুষ্টিয়া থেকে সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী এবং মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার হাতিরঝিল এলাকা থেকে সুব্রত বাইনের দুই সহযোগী শুটার আরাফাত ও শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে ৫টি বিদেশি পিস্তল ও ৫৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও, বাড্ডা এলাকায় 'চঞ্চল গ্রুপ' নামে আরও একটি সন্ত্রাসী দল সক্রিয়। চঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন; পুলিশের ধারণা তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। তার গ্রুপের দুজন সদস্যের নাম পুলিশের তালিকায় রয়েছে: আরাফাত হোসেন তামীম ও সোহেল মাহমুদ।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, ডেমরা থানা এলাকায় তিনজন অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ রয়েছেন: আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ বিজয় ও মোহাম্মদ শিবলী আহমেদ খান। শ্যামপুর থানা এলাকায় সক্রিয় আছেন পাঁচজন: কৃষ্ণ বাবু, রাশেদ, মোহাম্মদ রাজন, সজল ও বাপ্পারাজ। ওয়ারী থানা এলাকার তিনজন হলেন মাহিন খান, মারজান আহমেদ (ভাগনে রনি) ও মো. শামীম মিয়া। কদমতলী থানা এলাকার তিন অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ হলেন মো. জাহাঙ্গীর আলম, ওয়াহিদুজ্জামান ও মোহন চাঁদ। কামরাঙ্গীরচর এলাকার চারজন হলেন মো. সিদ্দিক, ফারুক আহমেদ, রহমত উল্লাহ ও শেখ আনোয়ার। চকবাজার থানা এলাকার মো. সালাউদ্দিন (বিয়ার সালাউদ্দিন) ও হাসান সারোয়ার পিলু।
সবুজবাগ এলাকায় রিফায়াতুল্লাহ নাইম, হৃদয় সরকার, মো. সাঈদ, শফিকুল ইসলাম ও নুরুন্নবী বাবু সক্রিয় অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ হিসেবে তালিকাভুক্ত। খিলগাঁও এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন মকবুল হোসেন, মিন্টু (কিলার মিন্টু), আলিফ ও শুভ (রিপন); এদের মধ্যে আলিফ কিশোর গ্যাং দলের নেতা। পল্টন থানা এলাকায় কাজী হাসিবুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ সক্রিয়। পুলিশের তালিকায় শাহজাহানপুর থানা, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও পল্লবী থানা এলাকায় সক্রিয় আরও কিছু অস্ত্রধারী চাঁদাবাজের নাম রয়েছে। এছাড়া, ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন গ্রুপ এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় পিচ্চি হেলালের গ্রুপের সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে।
বাড্ডা এলাকায় 'চঞ্চল গ্রুপ' নামে আরও একটি সন্ত্রাসী দল সক্রিয়। চঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন, পুলিশের ধারণা তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার দলের দুজন সদস্যের নাম পুলিশের তালিকায় আছে: আরাফাত হোসেন তামীম ও সোহেল মাহমুদ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন, চিহ্নিত অস্ত্রধারী চাঁদাবাজদের কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকায় গত ১ মে থেকে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে, যার ফলস্বরূপ ৬ মে পর্যন্ত ১৪৫ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং তাদের ২৫৬ জন সহযোগীকে আটক করা হয়েছে।
অস্ত্রধারী চাঁদাবাজরা অনেক বেশি বিপজ্জনক কারণ তারা চাঁদার জন্য নৃশংস ঘটনা ঘটাতে দ্বিধা করে না। তাই, গ্রেপ্তারের পর এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ যেন আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।অপরাধবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক
একটি তিন পর্বের অনুসন্ধানে যে চিত্র উঠে এসেছে তাতে দেখা যায়, চাঁদাবাজির পেছনে রয়েছে অস্ত্রধারী চক্র, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, বিদেশে অবস্থানকারী শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার একটি জটিল নেটওয়ার্ক। বিশ্লেষকদের মতে, কেবল তালিকা তৈরি করে বা কয়েক দিনের অভিযান চালিয়ে এসব অপরাধী চক্রকে ভাঙা সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হলে অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়দাতা, অর্থের ভাগীদার এবং প্রশাসনিক সহায়তাকারীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কেবল চাঁদাবাজির ব্যক্তিরা পরিবর্তিত হবে, কিন্তু চাঁদাবাজির মূল ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ থাকবে।
অপরাধবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৌহিদুল হক বলেছেন, চাঁদাবাজদের মধ্যে যারা অস্ত্রধারী, তারা অত্যন্ত ভয়ংকর। তারা চাঁদার জন্য বিভিন্ন নৃশংস ঘটনা ঘটায়। তাই, গ্রেপ্তারের পর এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ যেন আইনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সেদিকে সরকারকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com