৭ মে ২০২৬
preview
চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া বন্ধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও পথনাটক অনুষ্ঠিত

বিএনএন ডেস্ক

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন, আশা ও ভালোবাসা নিয়ে ট্রেনে চড়ে নিজ গন্তব্যে রওনা হন। কেউ প্রিয়জনের কাছে ফিরতে, কেউবা নতুন কোনো স্থানে ঘুরতে যান। কিন্তু এই আনন্দময় যাত্রা অনেক সময় পরিণত হচ্ছে এক মর্মান্তিক দুঃস্বপ্নে। চলন্ত ট্রেনে নির্বিচার পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় সাধারণ যাত্রীরা আহত হচ্ছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। এতে থমকে যাচ্ছে বহু পরিবারের স্বপ্ন, নেমে আসছে গভীর শোকের ছায়া।

এই অমানবিক ও বিপজ্জনক প্রবণতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মানববন্ধন কর্মসূচি করেছে পটিয়া বন্ধুসভা। ‘চলন্ত ট্রেনে কেউ পাথর ছুড়বেন না' এই জরুরি আহ্বানে গত ২ মে সকালে পটিয়া রেলস্টেশন প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

উপদেষ্টা রশীদ এনাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত আট বছরে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এতে ট্রেনের জানালার কাচ ভাঙা, বগির ক্ষতিসাধন ছাড়াও অনেক যাত্রীর গুরুতর আহত বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে প্রকৌশলী প্রীতি দাশ এবং ২০১৮ সালে ট্রেন পরিদর্শক বায়েজিদ পাথরের আঘাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান।'

অধ্যাপক ভগীরথ দাশ তার বক্তব্যে বলেন, ‘সম্প্রতি কক্সবাজার রুটেও এ ধরনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক ঘটনায় যাত্রীরা আহত হয়েছেন—কারও দাঁত ভেঙেছে, কারও মাথা ফেটেছে। নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটলেও এর কার্যকর প্রতিকার এখনো সুস্পষ্ট নয়।' তিনি প্রতিটি রেলস্টেশনে সচেতনতামূলক ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড স্থাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পটিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার তন্ময় চৌধুরী এবং বুকিং সহকারী ফরিদুল মাওলা পটিয়া বন্ধুসভার এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে এবং বিষয়টি রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে তুলে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহ আলম একটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও সচেতনতামূলক নাটিকা প্রদর্শন করেন। বেলা একটায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ট্রেন স্টেশনে পৌঁছালে যাত্রীদের উপস্থিতিতে এই নাটিকাটি মঞ্চস্থ হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন পটিয়া বন্ধুসভার সভাপতি আইরিন সুলতানা, মোরশেদুর রেজা, সাজ্জাদ রাফি, মো. ফাহিম, পার্থ প্রতীম দাশ, তানাস চৌধুরী, জুয়েল উদ্দীন, আবদুল মুহী, মাহবুবা সামিয়া, হুমাইরা জান্নাত, মিফতাহুল জান্নাত, তন্ময় চৌধুরী, বুশরা আক্তারের, সামিরা জান্নাতসহ আরও অনেকে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই মহৎ উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের প্রতিটি রেলস্টেশনে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি করারও জোর আহ্বান জানান।

সভাপতি, পটিয়া বন্ধুসভা


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com