১৩ মে ২০২৬
preview
অর্থ পাচারের মামলায় আদালতে জেলেনস্কির সাবেক চিফ অব স্টাফ

বিএনএন ডেস্ক

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক সাবেক শীর্ষ সহযোগী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে তাকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানিয়েছেন প্রসিকিউটররা।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ৫৪ বছর বয়সী ইয়ারমাক কিয়েভের কাছে কোজিনে অবস্থিত 'ডাইনেস্টি' নামক বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পে প্রায় ৪৬ কোটি ইউক্রেনীয় রিভনিয়া (১০.৫ মিলিয়ন ডলার) পাচার করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত অর্থ ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কোম্পানি 'এনারগোঅ্যাটম'-এ সংঘটিত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ইয়ারমাককে রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে এবং তার জামিনের পরিমাণ ১৮ কোটি ইউক্রেনীয় রিভনিয়া (৪ মিলিয়ন ডলার) নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
ইয়ারমাক নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বুধবার পুনরায় এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার শুনানির পর টেলিগ্রামে ইয়ারমাক লিখেছেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবী হিসেবে আমি সবসময় আইন মেনে চলেছি। এখন নিজের অধিকার, নাম ও সুনাম রক্ষার জন্য আমি আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”
শুনানির বিরতিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, “আমার মাত্র একটি ফ্ল্যাট ও একটি গাড়ি আছে।”
এই মামলাটি 'মিডাস' নামক একটি বৃহত্তর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ, যা ইউক্রেনের ন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (NABU) এবং স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটর অফিস (SAPO) পরিচালনা করছে। গত নভেম্বরে এই অভিযানের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যখন জেলেনস্কির সাবেক ব্যবসায়িক সহযোগী তিমুর মিনদিচ এনারগোঅ্যাটমে ১০ কোটি ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত হন।
অভিযোগ অস্বীকার করে মিনদিচ বর্তমানে ইসরায়েলে পালিয়ে গেছেন।
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন যে, ডাইনেস্টি আবাসন প্রকল্পের মামলায় মিনদিচসহ আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যার মধ্যে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি চেরনিশভ রয়েছেন, তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
তারা আরও জানান, ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান এবং রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী রুস্তম উমেরভকেও এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
দুর্নীতির কেলেঙ্কারি
একসময়ের চলচ্চিত্র প্রযোজক ইয়ারমাক, যিনি জেলেনস্কিকে টেলিভিশনের কাল্পনিক প্রেসিডেন্ট থেকে বাস্তবের রাষ্ট্রনেতা হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, গত নভেম্বরে চিফ অব স্টাফের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর এনারগোঅ্যাটম সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
NABU-এর প্রধান সেমেন ক্রিভোনোস মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজে কোনো তদন্তের আওতায় নেই।
আইন অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টকে তদন্তের আওতায় আনা সম্ভব নয়।
সাবেক সহযোগীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ নিয়ে জেলেনস্কি এখনো জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করেননি। সোমবার তার একজন যোগাযোগ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এই বিষয়ে কথা বলার সময় এখনো আসেনি।
এমন সময় এই অভিযোগ সামনে এল যখন ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর আর্থিক সহায়তার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, যা দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া রাশিয়ার আক্রমণের পঞ্চম বছরে শান্তি আলোচনার উদ্যোগও বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।
২০১৪ সালের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের পর প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা NABU ও SAPO-এর স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করেছিল ইউক্রেন সরকার।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন বিরল প্রতিবাদ শুরু হয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তীব্র আপত্তির মুখে জেলেনস্কি তার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।
ইয়ারমাকের বিরুদ্ধে এই মামলাকে ইউক্রেনের দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের একটি ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন জেলেনস্কির দল 'সার্ভেন্ট অব দ্য পিপল'-এর কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
সংসদের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির প্রধান ওলেক্সান্দ্র মেরেজকো বলেন, “ইউক্রেনের একটি স্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা যে কার্যকরভাবে কাজ করছে, তা আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদাররা এখন দেখতে পাচ্ছে।”
কিয়েভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির ৪ মে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়েও প্রেসিডেন্টের প্রতি আস্থা রাখা মানুষের হার ৫৮ শতাংশের কাছাকাছি।
তবে ৬ মে প্রকাশিত অপর একটি জরিপে দেখা গেছে, ৫৪ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন যে রাশিয়ার যুদ্ধের চেয়েও দুর্নীতি দেশটির উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।

ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com