১৩ মে ২০২৬


কার্টেল দমনে মার্কিন গুপ্তহত্যার অভিযানের খবর প্রত্যাখ্যান করল মেক্সিকো ও সিআইএ
বিএনএন ডেস্ক
মেক্সিকোর ভেতরে মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার খবরটি নাকচ করে দিয়েছে মেক্সিকো সরকার ও সিআইএ।
সম্প্রতি সিএনএন-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মেক্সিকোর মাদক কার্টেলগুলো ভাঙতে সিআইএ মারাত্মক সব অভিযান চালাচ্ছে—এর প্রেক্ষিতেই এই অস্বীকৃতি এলো।
সিএনএন-এর একাধিক অজ্ঞাত সূত্র জানিয়েছে যে, সিআইএ এজেন্টরা গত বছর থেকে মাদক সিন্ডিকেটের ওপর বেশ কয়েকটি হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছে; যার মধ্যে গত মার্চে সিনালোয়া কার্টেলের সদস্য ফ্রান্সিসকো বেলট্রানকে লক্ষ্য করে চালানো গাড়িবোমা হামলা অন্যতম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানগুলোতে মূলত কার্টেলের মাঝারি সারির সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সিআইএ-এর ভূমিকা ছিল তথ্য আদান-প্রদান থেকে শুরু করে সরাসরি গুপ্তহত্যায় অংশ নেওয়া পর্যন্ত।
সিআইএ মুখপাত্র লিজ লায়ন্স এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সিএনএন-এর প্রতিবেদনটিকে 'মিথ্যা ও চাঞ্চল্যকর' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি কার্টেলদের পক্ষ নিয়ে চালানো এক অপপ্রচার মাত্র, যা আমেরিকানদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
মেক্সিকোর নিরাপত্তা সচিব ওমর গার্সিয়া হারফুচও এই রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, কোনো বিদেশি সংস্থা মেক্সিকোর মাটিতে গোপনে বা এককভাবে কোনো প্রাণঘাতী অভিযান চালাচ্ছে—এমন দাবি সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
হারফুচ এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের পারস্পরিক গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর সহযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'তবে এই সহযোগিতা সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, পারস্পরিক আস্থা এবং সমতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, কোনো অধীনতা বা আজ্ঞাবহতার মাধ্যমে নয়।'
মেক্সিকো সরকার ও সিআইএ-এর এমন মন্তব্যের পর সিএনএন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার মাদক পাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যা নিয়ে সমালোচকরা বলছেন এটি আইনি ও প্রথাগত রীতিনীতি লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মেক্সিকোর সিনালোয়া কার্টেল, লা নুয়েভা ফামিলিয়া মিচোয়াকানা এবং কার্তেলস ইউনিদোসসহ নয়টি লাতিন আমেরিকান গ্যাংকে 'সন্ত্রাসী' গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এছাড়া ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদকবাহী সন্দেহে ডজনখানেক নৌযানে আকাশপথে হামলায় ১৯০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে।
ট্রাম্পের এই কঠোর মাদকবিরোধী নীতি মেক্সিকোর সাথে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, মেক্সিকোই হলো যুক্তরাষ্ট্রে ফেনটানিল, কোকেন ও হেরোইনের মতো মাদক প্রবেশের প্রধান পথ।
গত মাসে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম চিহুয়াহুয়া প্রদেশের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন, কারণ তারা সিআইএ সদস্যদের গোপন ল্যাবে অভিযানে সহায়তা করেছিল।
শেইনবাম জানান, সিআইএ-এর এই কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরকার বা প্রশাসনের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি সামনে আসে যখন কাউন্টার-নারকোটিকস অভিযানের পর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় সিআইএ-এর সাথে কাজ করা দুই আমেরিকান নিহত হন।
উল্লেখ্য যে, ২০২০ সালে মেক্সিকোর কংগ্রেসের পাস করা আইন অনুযায়ী, দেশটিতে কর্মরত বিদেশি এজেন্টদের অবশ্যই সরকারের কাছে তথ্য প্রদান করতে হবে এবং তাদের কোনো কূটনৈতিক ছাড় (ডিপ্লোম্যাটিক ইমিউনিটি) পাওয়ার সুযোগ নেই।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com