১৩ মে ২০২৬


বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার দাবি পুতিনের
বিএনএন ডেস্ক
রাশিয়া তাদের নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'সারমাত'-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন এই অস্ত্রটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র।
মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়। কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ এ বিষয়ে পুতিনকে ব্রিফ করেছেন।
পুতিন জানিয়েছেন যে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সক্রিয় দায়িত্বে যুক্ত হবে।
টেলিভিশন ভাষণে পুতিন বলেন, এটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। এর ওয়ারহেড ধারণক্ষমতা পশ্চিমা বিশ্বের যেকোনো সমগোত্রীয় অস্ত্রের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
পুতিন আরও দাবি করেন, সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রটি সাব-অরবিটাল ফ্লাইটে সক্ষম এবং এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। এটি বর্তমানে প্রচলিত ও ভবিষ্যতে তৈরি হতে যাওয়া যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
এর আগেও বেশ কয়েকবার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, তবে বেশ কিছু জটিলতায় তা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
২০১১ সাল থেকে সারমাতের উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার সফল পরীক্ষার আগে মাত্র একটি সফল পরীক্ষার নজির ছিল এবং শোনা যায়, ২০২৪ সালে এর একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ বড় ধরনের ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল।
পশ্চিমা বিশ্বে এটি 'শয়তান-২' নামে পরিচিত। সোভিয়েত আমলের ভয়োভোদা ক্ষেপণাস্ত্রের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এটি তৈরি করা হয়েছে। পুতিন জানান, শক্তির দিক থেকে এটি ভয়োভোদার সমান হলেও নির্ভুলতার বিচারে অনেক উন্নত।
দশকব্যাপী রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ যে ভারসাম্য বজায় ছিল, তা ভেঙে যাওয়ার আবহে এই পরীক্ষাটি চালানো হলো।
পরমাণু অস্ত্র ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সর্বশেষ চুক্তি 'নিউ স্টার্ট' গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর ফলে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো দুই পারমাণবিক শক্তির হাতে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
চুক্তিটি বাতিল হওয়ার পর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পর্যায়ে আলোচনার কথা বললেও, নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে নিউ স্টার্ট চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন নতুন কোনো চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হোক, যদিও রাশিয়ার তুলনায় চীনের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার অনেক ছোট।
তবে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের বিষয়টি প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ট্রাম্প এটি নবায়নের বিষয়ে মূলত নীরব ভূমিকা পালন করেছিলেন।
২০০০ সালে ক্ষমতায় বসার পর পুতিন রাশিয়ার পারমাণবিক ত্রয়ীকে আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। এর আওতায় রয়েছে নতুন আইসিবিএম মোতায়েন, অত্যাধুনিক পারমাণবিক সাবমেরিন ও আধুনিক বোমারু বিমান সংযোজন।
২০১৮ সালে প্রথম সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করেন পুতিন। সেই সঙ্গে তিনি 'আভানগার্ড' হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলসহ বেশ কিছু নতুন অস্ত্রের কথা জানান, যা শব্দের চেয়ে ২৭ গুণ দ্রুত গতিতে ছুটতে পারে।
এই নতুন অস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম ধাপ এরই মধ্যে সামরিক পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়া 'ওরেশনিখ' নামে নতুন একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করেছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধে দুইবার ব্যবহার করা হয়েছে। ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম।
পুতিন আরও জানিয়েছেন যে, পারমাণবিক শক্তিচালিত পানির নিচের ড্রোন 'পোসেইদন' এবং পরমাণু চুল্লিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র 'বুরেভেস্তনিক'-এর উন্নয়ন কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
পুতিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল শিল্ডের বিপরীতে এই নতুন অস্ত্রগুলো রাশিয়ার কৌশলগত সুরক্ষার অংশ, যা ওয়াশিংটন ২০০১ সালে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে সরে আসার পর তৈরি করেছিল।
রুশ সামরিক নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা ছিল, মার্কিন মিসাইল শিল্ড রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে, যাতে প্রথম আঘাতের পর রাশিয়ার কোনো পাল্টা জবাব দেওয়ার সুযোগ না থাকে।
পুতিন বলেন, 'নতুন বাস্তবতা ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনে আমরা আমাদের সুরক্ষাকে নিশ্চিত করতে বাধ্য হয়েছি।'
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
ফোন : +88 01919237299, +8801640754545, ই-মেইল: princesalehbd@gmail.com