খবরের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এখনই ভিজিট করুন:www.bnnbreakingnews.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : প্রিন্স সালেহ। প্রকাশক কর্তৃক ১২ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামোটর, ঢাকা ১২০৫ থেকে মুদ্রিত।
স্বত্ব © BNN Breaking News (2026)
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
বিএনএন ডেস্ক

আমাদের কৃষক পরিবারে দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। অনেক সময় দিনের একবেলাই শুধু রান্না হতো। মা নিজের ভাগটুকুও সন্তানদের জন্য ছেড়ে দিতেন, এমনকি পাতিলের তলায় লেগে থাকা ভাতটুকুও তিনি খেতেন না। আব্বা চাল কিনতে না পারলে চুলা জ্বলত না। মা তখন নিজের ক্ষুধা মেটাতে জল পান করতেন, যাতে অভাবের দিনে কোনো সন্তান ভাত চাইলে তাকে দেওয়া যায়। নয় সদস্যের বড় পরিবারে প্রতিদিন তিন-চার সের চাল লাগত, কিন্তু আব্বার সামর্থ্য ছিল দুই থেকে আড়াই সের কেনার। ফলে বড় ভাই-বোনেরা প্রায়শই একবেলা খেয়ে দিন কাটাতো, তবে আমি পেট ভরে না খেলে কাঁদতে শুরু করতাম।
অকস্মাৎ যখনই মায়ের কাছে খাবারের আবদার করতাম, মা কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যেতেন। অনেক বছর পর আজো ভাবলে অবাক লাগে, সেই সময় আমি যতবার ভাত চেয়েছি, মা আমাকে প্লেট ভরে খাইয়েছেন। যেদিন এক সের চাল আসত, সেদিনও আমার পাতে পুরো ভাত থাকত, এমনকি চাল না থাকলেও। মা কোত্থেকে এমন করে ভাত আর ডিম ভেজে সাজিয়ে দিতেন? পরে জেনেছি, দিনের পর দিন তিনি নিজে না খেয়ে আমার জন্য খাবার জমিয়ে রাখতেন।
বাবা যে মাকে দুবেলা পর্যাপ্ত খাবার দিতে পারেননি, সে বিষয়ে মা কখনো কোনো অভিযোগ করেননি। বরং বাবার কষ্ট হবে ভেবে তিনি সবকিছু গোপন রাখতেন। মা যে না খেয়ে খাওয়ার ভান করতেন, আমরা তা বুঝতে পারিনি। বড় হওয়ার পর যখন তিনি নিজেই গল্পের ছলে এসব বলেছেন, তখন বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। না বললে হয়তো কখনোই জানতে পারতাম না। সেদিন আমার স্ত্রী যখন মায়ের সামনে থালা ভরে ভাত ও হরেক রকম পদ নিয়ে বসেছিলেন, মা শুধু একমুঠো ভাত দাঁতহীন মুখে তুলে জল খেয়ে নিলেন। যখন তিনি খেতে পারতেন, তখন আমাদের জন্য ত্যাগ করেছেন। আর আজ বয়সের কারণে তিনি ভালোভাবে খেতে পারেন না। এভাবেই মায়ের সারা জীবন কেটে গেল খেয়ে না খেয়ে।
সহকারী শিক্ষক (বাংলা), হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, কুমিল্লা
প্রচ্ছদ নিয়ে আরও পড়ুন




